চট্টগ্রাম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৯ এপ্রিল, ২০১৯ | ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইপিজেডে পুকুর ভরাট করে গ্যারেজ ও বসতি নির্মাণ

৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড

নগরীর ইপিজেড থানাধীন নয়ারহাট এলাকায় একটি পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে গ্যারেজ ও বসতি। নয়ারহাটের চার রাস্তার মোড়ে ফজর আলী সারাংয়ের বাড়ির এ পুকুরটি একসময় প্রায় ৪০ শতক জায়গা জুড়ে থাকলেও এখন তার অর্ধেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। পরিবেশ রক্ষায় পুকুর, ডোবা, খাল বা যেকোনো ধরনের জলাশয় ভরাটে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরিবেশ অধিদপ্তর। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের এ নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে রিকশার গ্যারেজ ও বসতি। ফলে পুকুরটির বাকি যে অংশ ভরাট করা হয়নি তাও পানি সংকট এবং ময়লা জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পুকুরটির প্রায় অর্ধেকাংশ জমি ভরাট করে সেখানে রিকশার গ্যারেজ ও বসতি নির্মাণ করেছে পুকুরটির অংশীদাররা। আর এসব স্থাপনা নির্মাণের কারণে পুকুরটি এখন মৃত প্রায়। পানি সংকট এবং ময়লা জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুকুরটির বাকি অংশগুলোও। প্রথম দিকে পুকুরটির দক্ষিণ পাশের পাড়ে রিকশার গ্যারেজ গড়ে তোলা হলেও পরে মাটি দিয়ে ভরাট করে এর পরিধি আরো বাড়ানো হয়। এবং পরে তা মাসিক হারে ভাড়া দেওয়া হয়। অন্যদিকে পুকুরটির পূর্ব পাশে বেশকিছু জায়গা ভরাট করে সেখানে বসতি নির্মাণ করেছে আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। পুকুর ভরাটের পর সেখানে দেয়াল দিয়ে একতলা বিশিষ্ট ঘর ও আলাদা টয়লেটও নির্মাণ করেছেন তিনি। এছাড়া আমিনুর রহমানের পাশেই পুকুরটির পাড়ে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন সৈয়দ আলম নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান সৈয়দ আলম।
এদিকে পুকুর ভরাট বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন পুকুরটির অন্য অংশীদার মো. আবু তারেক সোহেল। তবে অভিযোগে পুকুর ভরাটের জন্য শুধুমাত্র আমিনুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
পুকুর ভরাট করে একতলা বিশিষ্ট ঘর ও টয়লেট নির্মাণ করা আমিনুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘সোহেল নামে স্থানীয় এক যুবক আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। তাকে চাঁদা না দেওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাসেলও এ বিষয়টা জানেন। আর এ নিয়ে আমি তার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলাও দায়ের করি। তাছাড়া এই এলাকার বেশিরভাগ ভবনই পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। আমি ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমতি নিয়েছি তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আমাকে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি’।
চাঁদা দাবির বিষয়ে মো. আবু তারেক সোহেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুকুর ভরাট করে বসতি নির্মাণ করায় আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করি আমি। যা বন্ধ করতে আমার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন তিনি। যেখানে আমি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছি বলে উল্লেখ করা হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমিনুর রহমান আমার আরো কিছু জায়গা টাকার বিনিময়ে ক্রয় করতে চায়। একাধিকবার টাকার প্রলোভন দেখান এবং কাউন্সিলর ও থানার ওসির মাধ্যমে এটার একটি সমঝোতাও করতে চান তিনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওসি কি কখনো চাঁদার টাকার সমঝোতা করতে থানায় ডাকেন? এ মামলাটি করা হয়েছে শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার কারণে। যাতে পুকুর ভরাট করতে তাকে আর কেউ বাধা না দেয়’।পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে করা অভিযোগে শুধুমাত্র আমিনুর রহমানের নাম উল্লেখ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, রিকশার গ্যারেজটি অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া চারতলা ভবনটির মালিক সৈয়দ আলম পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছে। তাই তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি বলে জানান তিনি। খুব শীঘ্রই এই পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘ এ পুকুরটি নিয়ে তারেক নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। যেখানে আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন তিনি। তবে পুকুরটি সরেজমিন পরিদর্শনে এসে আমরা দেখতে পাই সেখানে আমিনুর রহমানসহ আরো অনেকে পুকুর ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি’।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 293 People

সম্পর্কিত পোস্ট