চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১

শিশু ইলহাম হত্যা: আড়াই বছর পরও চিহ্নিত হয়নি হত্যাকারী

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৫:২১ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ 

শিশু ইলহাম হত্যা: আড়াই বছর পরও চিহ্নিত হয়নি হত্যাকারী

আড়াই বছর পার হলেও জানা যায়নি স্কুলছাত্রী ইলহাম বিনতে নাসির হত্যার রহস্য। ঘরের ভেতরে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এগারো বছরের শিশু ইলহামকে। মেয়ের হত্যাকারীদের পরিচয় জানতে পারবেন কি না কিংবা মেয়ে হত্যার বিচার পাবেন কি না তা নিয়ে সন্দিহান নিহত ইলহামের বাবা নাসির উদ্দিন।

২০১৮ সালের ২৭ জুন বাকলিয়া থানার পশ্চিম বাকালিয়া সৈয়দ শাহ রোডের ল্যান্ডমার্ক সোসাইটিতে বাসার ভেতরে এগারো বছরের শিশু ইলহামকে জবাই করে হত্যা করা হয়। তাদের নিজ বাড়ি সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের উত্তর ঢেমশা গ্রামে। হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে ঘটনার দুইদিন পর রেজোয়ান সিদ্দিকী নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। নাসির উদ্দিনের ভাইয়ের শ্যালক শিক্ষানবীশ আইনজীবী রেজোয়ান কয়েকমাস পর জামিনে মুক্তি পায়। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে সাতটায় মা নাসরিন আক্তার খুশবু মেজ মেয়েকে বাসার অদূরে মেরন সান স্কুলে দিতে গিয়েছিলেন। একই স্কুলে পড়তো ইলহাম। আটটার দিকে বাসায় এসে দেখেন বড় মেয়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে খাটের ওপর। ঘটনার দুইদিনের মাথায় রেজোয়ান সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ইলহাম হত্যার বিষয়ে তিনি নিজেকে বরাবরাই নির্দোষ দাবি করেছেন।

ঘটনার পর পরই মামলাটি বাকলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে। একমাসের মাথায় মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব নেন। ইলহামের বাবা নাসির উদ্দিন সৌদিআরবে ব্যবসা করতেন। মেয়ের মৃত্যুর পর ব্যবসা বাণিজ্য গুটিয়ে তিনি দেশে চলে আসেন। আর ফিরেননি সৌদিআরবে। তবে সিআইডির তদন্তে সন্তুষ্ট নন তিনি।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক স্বপন কান্তি বড়ুয়া জানান, ইলহাম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আর কয়েকজন সাক্ষী বাকি রয়েছে। বাদিপক্ষকে সঠিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না। বাদিপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়া প্রসেঙ্গ স্বপন কান্তি জানান, সহযোগিতা তা নয়- তারা বিদেশে থাকেন তাই সময় অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। সাক্ষিগুলো বাদির আত্মীয় স্বজনের মধ্যে।

গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাসির উদ্দিন জানান, মেয়েকে হত্যার পর পরই আমি দেশে চলে এসেছি। বিদেশে আর যাবো না। আমার ঘরের ভেতরে মেয়েটিকে গলা কেটে হত্যা করা হলো। আড়াই বছর পার হচ্ছে, আজো জানতে পারলাম না আমার নিস্পাপ মেয়েটিকে কে মারলো- কেনই বা মারলো। ঘটনার পর পর আইনশ্ঙ্খৃলা বাহিনীর সদস্যদের দৌড়ঝাঁপ দেখে আশা করেছিলাম মেয়ের হত্যাকারীকে দেখতে পাবো। অথচ কিছুই হলো না।

নাসির উদ্দিন বলেন, মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। কয়দিন আগে তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন তাঁরা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে দেবেন। সিআইডির তদন্তে আমি সন্তুষ্ট নই। ঘটনার দুইদিন পর আমার এক নিকট আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছিলো গোয়েন্দা পুলিশ। কয়দিন পর তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তার কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। আড়াই বছরের তদন্তে নতুন কোন তথ্য মেলেনি। মেয়ের হত্যাকারীকে দেখতো পাবো কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 117 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট