চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ | ২:২৫ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর 

বায়েজিদ বাইপাস: পাহাড় কাটতে হবে আবারও

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বায়েজিদ বাইপাস। ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক বাস্তবায়ন করতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ছোট-বড় মিলে প্রায় ১৮টি পাহাড় কেটেছে। এরমধ্যে চারটি পাহাড় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি হলে খাড়া এসব পাহাড় থেকে প্রায়ই মাটি ধসে সংলগ্ন রাস্তায় পড়ে। এই রাস্তা দিয়ে যেহেতু প্রতিনিয়ত যান চলাচল করছে, তাই রাস্তায় পাহাড় ধসে পড়ে ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসব পাহাড় কাটায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিডিএকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

অন্যদিকে এসব ঝুঁকি এড়াতে ফের চারটি পাহাড় কাটতে চায় সিডিএ। এরজন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে সাথে নিয়ে এসব এলাকায় সম্প্রতি যৌথ সার্ভে করেছে সিডিএ। সার্ভের পর এই চারটি পাহাড় থেকে দুই লাখ ঘনমিটার মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠিও দিয়েছে সরকারি এই সংস্থা। তবে ফের পাহাড়কাটার অনুমতি নিতে বিশেষজ্ঞের মতামত চায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. নূরুল্লাহ নূরী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে সাথে নিয়ে সিডিএ যৌথ সার্ভে করেছে। এরপর সিডিএ ঝুঁকিপূর্ণ চারটি পাহাড় থেকে দুই লাখ ঘনমিটার পাহাড় (মাটি) কাটতে হবে বলে আমাদের একটি চিঠি দিয়েছে। আমাদের হিসেবে দুই লাখ ঘনমিটার মাটি কাটা মানে অনেক বেশি। এ ছাড়া আমাদের ডিপার্টমেন্টে কোনো ইঞ্জিনিয়ার বা বিশেষজ্ঞ নেই। তাই আমরা সিডিএকে বলেছি, চুয়েট বা বুয়েট থেকে কোনো বিশেষজ্ঞ টিম এনে তাদের মতামত নিতে। তিন থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম গঠন করলে, তারাই সিদ্ধান্ত দেবে পরবর্তীতে সিডিএ কি পরিমাণ বা কিভাবে পাহাড় কাটবে। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক চট্টগ্রামে এসেছেন। তিনিও এটার একটা সুষ্ঠু সমাধান চান। এটি যেহেতু একটি সরকারি প্রজেক্ট, তাই দীর্ঘদিন ফেলেও রাখা যাবে না। আবার বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজও করতে দেয়া যাবে না। সম্প্রতি সিডিএ আমাদের জানিয়েছে, তারা তিন বা পাঁচ সদস্যের একটি টিম করবে। টিমের সিদ্ধান্ত মতে সিডিএ প্রকল্পের ড্রয়িং-ডিজাইনসহ আমাদের কাছে জমা দেবে।

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্ধসঢ়; বলেন, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর মহানগর ও জেলা দুটি জোনে বিভক্ত। ইতোমধ্যে আমরা শহর এলাকার সার্ভে সম্পন্ন করেছি। সেখানে ঝুঁকিতে থাকা পাহাড়গুলো কিভাবে ঝুঁকিমুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর পরবর্তীতে আমরা বাকি পাহাড়গুলোর সার্ভে করবো।

বায়েজিদ বাইপাস সড়কের প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ বলেন, আমরা বায়েজিদ বোস্তামী থেকে শুরু করে ফৌজদারহাট পর্যন্ত সার্ভে শুরু করেছি। প্রকল্পটি মোট ৬ কিলোমিটার। এই ৬ কিলোমিটারের সড়কে ছোট-বড় মিলে মোট ১৮টি পাহাড় রয়েছে। এরমধ্যে ৪-৫টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এই পাহাড়গুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য শীঘ্রই ঢালু করে কাটবো।

উল্লেখ্য নগরীর যানজট নিরসনকল্পে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন বায়েজিদ বোস্তামী থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত চট্টগ্রামের প্রথম বাইপাস সড়ক। এই সড়কে নির্মাণ করা হচ্ছে ১২টি কালভার্ট ও ৬টি ব্রিজ। ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪ লেন বিশিষ্ট এই প্রকল্পের একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধি করে সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুন মাসে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধি ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 204 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট