চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই

‘মারিশ্যা মডেল টাউন দখল করি আমরা’

‘বিএলএফ ট্রেনিং নিয়ে দেশে ফিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে কম্পানি কমান্ডার নূর নবী চৌধুরীর নেতৃত্বে মারিশ্যা মডেল টাউন দখল করি আমরা। সেখানে একদিন ভারতের স্বাধীনতাকামী মিজোরাম প্রদেশের গেরিলাদের সাথে আমাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যাতে তাদের অনেক লোক হতাহত হয়েছিল।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির আহম্মেদ।

১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশ নেন এ সাহসী যোদ্ধা। যুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের উত্তর প্রদেশে একটি ট্রেনিং সেন্টারে প্রায় ৪৫দিন বিএলএফ এর প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ সম্মুখযুদ্ধ অংশ নেন। মিরসরাই ছাড়াও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ কিছু যুদ্ধে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে ২ মার্চ আমাদের এলাকায় স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। ২৫ মার্চ শেষ রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়টি আমাদের কাছে পৌঁছলে স্থানীয়ভাবে সড়ক ও রেলপথ প্রতিরোধ শুরু হয়। এখানে প্রথম দিকে পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে শুভপুর ব্রিজে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। সেখানে নেতৃত্ব দেন মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

১৯৭১ সালে জুলাই মাসে আমরা ক’জন মিলে ভারতে যাই। সেখানে কয়েকদিন ইয়ুথ ক্যাম্পে থাকার পর হরিণা ক্যাম্পে আমাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা। আমরা ২১ আগস্ট নায়েক শফিউল্যার নেতৃত্বে ১৭ জনের একটি এফএফ টিম দেশে প্রবেশ করে অবস্থান নিই মিরসরাইয়ের তেতৈয়া গ্রামে।

১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে মিরসরাইয়ের আবুরহাট এলাকায় পাক আর্মি আক্রমণ করার কথা ছিল। খবর পেয়ে আমরা জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়কের কমরী পুল এলাকায় অবস্থান নিই। পাক আর্মি আসতে না আসতেই আমরা তাদের ওপর হামলা চালাই। এসময় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি আর্মি মারা যায় অনেকে আহত হয়।

আবুরহাট সড়কের সম্মুখযুদ্ধের রিপোর্ট দেয়ার জন্য এবং আরও অস্ত্র আনার জন্য ১৯৭১ সালের ২ অক্টোবর তারিখে আমাকে পুনরায় ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে গেলে আমাকে উচ্চমান ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রেনিং করতে আগরতলা পাঠানো হয়। আগরতলা থেকে একটি কার্গো বিমানে আমাদের বেশ কজনকে ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠানো হয়। সেখানে আমরা ৪৫ দিন বিএলএফ ট্রেনিং শেষে ভারতের দেমাগ্রী পাহাড় হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করি।’

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পাকিস্তানি আর্মির সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেয় ভারতের স্বাধীনতাকামী মিজোরাম প্রদেশের লোকজন। নিজের স্মৃতিচারণে এমন তথ্য দেন মুক্তিযোদ্ধা কবির আহম্মদ।

নিজের এলাকা মিরসরাই ৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হলে তিনি রামগড় হয়ে এলাকায় ফিরেন ১২ ডিসেম্বর। ফিরে দেখেন নিজের এলাকা মিরসরাই স্বাধীন হয়ে গেছে।

‘১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসলে ২০ জানুয়ারি আমরা মিরসরাই থানায় যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র জমা দি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির আহম্মদ ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাজীশ্বরাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত আলহাজ নূর আহম্মদ ও মা মৃত রৈয়েছের নেছা। কবির আহম্মদের স্ত্রী রেহানা আক্তার মারা যান ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল। দুই কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক তিনি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 107 People

সম্পর্কিত পোস্ট