চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

১ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৪:৩৩ অপরাহ্ণ

চবি সংবাদদাতা

স্থগিত পরীক্ষা না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি চবি শিক্ষার্থীদের

করোনার কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের স্থগিত থাকা পরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়েছে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে একটি সংগঠন। একইসাথে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত না নিলে ৬ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটির সদস্যরা।

আজ মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছে তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফোরকানুল আলম।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত ১৮ই মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষসহ অন্যান্য বর্ষের চলমান ও তারিখ নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরীক্ষাসমূহ নেয়ার ব্যাপারে কোনরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় বিগত সেপ্টেম্বর মাসে আমরা স্ব স্ব বিভাগে স্থগিতকৃত পরীক্ষাসমূহ নেয়ার ব্যাপারে বিভাগীয় সভাপতি এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতি  বরাবর যোগাযোগ করি। বিভাগসমূহ থেকে জানানো হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ব্যতীত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ চবি’ কর্তৃপক্ষ বরাবর বেশ কয়েকটা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। এর বিপরীতেও অতি সত্ত্বর পরীক্ষা নেয়ার আশ্বাস পেলেও আমরা কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত পাই নি।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফোরকান বলেন, ‘‘১৫  নভেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি এবং পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা আমরা সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানতে পারি। কিন্তু ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও উক্ত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন না হওয়ায় পুনরায় স্মারকলিপি পেশ করা হয়।’’

ফোরকান আরও বলেন, ‘‘গতকাল ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)’র পক্ষ থেকে ৪৩তম বিসিএস (সাধারণ) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং আবেদনের সর্বশেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২১ উল্লেখ করা হয়। উল্লেখিত তারিখের মধ্যে আমাদের পরীক্ষা সমাপ্ত না হলে আমরা আবেদনের যোগ্যতা হারাব। যেটি বিগত ৪১তম বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে আমরা হারিয়েছি।’’

অনশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফোরকানুল আলম বলেন, উপরোল্লিখিত সার্বিক পরিস্থিতি সাপেক্ষে আমরা ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ চবি’ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, আগামী ৩ ডিসেম্বর ২০২০ এর মধ্যে স্থগিতকৃত পরীক্ষাসমূহ নেয়ার ব্যাপারে যদি তারিখ ঘোষণাপূর্বক সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা না আসে, তাহলে আগামী ৬ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ থেকে আমরা আমরণ অনশনে যাব।
এদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘‘আমরা পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। সকল ডিন এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। খুব শীঘ্রই আমরা পরীক্ষা শুরু করবো। তাহলে শিক্ষার্থীরা কেন অনশনে যাবে?’’

তিনি আরও বলেন, সরকার ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছেন। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ও কিন্তু পরীক্ষা নিচ্ছে না। আবার দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। তারপরও আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে মিটিং করে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করোনার মধ্যে কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া যায় সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা করার সময় দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসার পর কোনো অঘটন ঘটলে দায়ী কে থাকবে? শিক্ষার্থীরা আবেগ দিয়ে দেখলেতো হবে না, পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। আমরা তাদের কথা দিচ্ছি পরীক্ষা আমরা খুব শীঘ্রই নিবো। ইতোমধ্যে মিটিং করে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ২৯ নভেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হয় প্রথমে বিভিন্ন বিভাগে স্থগিত মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা সমূহ নেয়া হবে। এরপর পরিস্থিতি বুঝে পর্যায়ক্রমে স্থগিতকৃত পরীক্ষাসমূহ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 182 People

সম্পর্কিত পোস্ট