চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২৪ নভেম্বর, ২০২০ | ২:২২ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম 

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নেই

ছাত্রলীগের কোন্দল বিরাজ করছে চট্টগ্রামের চার ইউনিটেই (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ ও বিশ^বিদ্যালয়)। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ মাঝে-মধ্যে দুই-একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও সমস্যা সমাধানের মূলে হাত না দেয়ায় সমস্যা জিইয়েই থাকছে। দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা নিয়ে অনেক ছাত্রলীগ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিমত, মূলত সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ছাত্রলীগে কোন্দল বাড়ছে। কমিটি ঘোষণার পর পাল্টা কমিটি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিতর্কিতদের জায়গা না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মীরাও ছাত্রলীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি লোহাগাড়া উপজেলায় কমিটি ঘোষণার পর পাল্টা কমিটির ঘোষণার কারণ হিসেবেও এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। এর আগে সাতকানিয়া উপজেলা কমিটিতেও একই অবস্থা দেখা দিলে কেন্দ্র বিতর্কিত কমিটি বাতিল করেছিল। 

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ পূর্বকোণকে বলেন, যেহেতু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত ছিল। গত ৪ মার্চ ২৭৬ জনের কমিটি ঘোষিত হয়েছিল। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এই দীর্ঘ সময়েও সবাইকে নিয়ে একবারও বসতে পারেনি। তাদের স্বাক্ষর করার ক্ষমতা আছে। তাই বলে শুধুমাত্র তাদের সিদ্ধান্তে সংগঠন চলতে পারে না। তারা বিভিন্ন উপজেলার কমিটি দিচ্ছেন। সেসব উপজেলায় জেলা ছাত্রলীগের নেতা আছে। তাদের সাথে আলোচনা করছে না। এসব কারণে বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তদন্ত করা উচিত কেন একটি কমিটি ঘোষণার পর পাল্টা কমিটি হচ্ছে। শুধুমাত্র বহিষ্কার করে নয়, কারণ অনুসন্ধান করে সমাধান করতে হবে।

আরেক সহ-সভাপতি শফিউল আলম বলেন, শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে যদি দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ চলতো তাহলে এতবড় কমিটির প্রয়োজন ছিল না। কর্মীরা ছাত্রলীগ করে দলের আদর্শ নিয়ে। কিন্তু তাদের সামনে যদি ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের কোন কর্মী কমিটিতে পদ পায়, তখন ক্ষোভের সঞ্চার হয়। যুগ্ম সম্পাদক রাশেদ ছাত্রদলের কর্মী। তার পোস্টারও আছে। সাধারণ সম্পাদক জামায়াত পরিবারের। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বিষয়টি ভালভাবে খোঁজ নিলে হয়তো বহিষ্কারের ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে অন্যদল করা লোকদের দিয়ে যতদিন কমিটি করবে, কোন্দল তত বাড়বে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের পূর্বকোণকে বলেন, উপজেলা কমিটি গঠনের আগে ওই উপজেলার কেন্দ্রীয় এবং জেলা- উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া ছাত্রলীগের জেলা কমিটির ওই উপজেলার নেতাদের সাথে আলাপ হয়েছে। তবুও কেন তারা পাল্টা কমিটি ঘোষণা দিল জানি না। তাই তারা শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তি পেয়েছে। তবে উপজেলা কমিটিতে তারা জেনেশুনে ছাত্রদল কিংবা ছাত্রশিবিরের কোন কর্মীকে স্থান দেননি উল্লেখ করে বলেন,  এ বিষয়ে তারা খোঁজ নিচ্ছেন। তাদের অজান্তে কেউ যদি জায়গা পেয়ে থাকে অবশ্যই তার পদ কেড়ে নেয়া হবে।

একইভাবে মহানগর ছাত্রলীগের বিরোধ শুরু হয় চট্টগ্রাম কলেজ কমিটি নিয়ে। সর্বশেষ ডবলমুরিং ও চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক হলে বিক্ষোভ দেখা দেয়। দীর্ঘ দশ মাসেও কেন্দ্রীয় সংসদ কোন সুরাহা করতে পারেনি। অন্যান্য থানা ও কলেজে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ বাড়ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এসব বিষয়ে কার্যকর কোন সমাধান দিতে পারেনি।

সম্প্রতি উত্তর জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগ নিয়ে ‘লাখ টাকায় কমিটি অনুমোদন’ সংক্রান্ত একটি ফেসবুক স্টাটাস নিয়ে আলোচনা। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মিরসরাইয়ে হামলা। মামলা করায় ফের হামলা। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিনের উপর হামলার ঘটনাটিও এর সাথে সম্পৃক্ত বলে বলা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে বিতর্কিত আচরণের অভিযোগ এনে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ২৯১ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এসব বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মাথাব্যথা নেই।

মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুক ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানা হচ্ছে না নগরে। কমিটিতে অস্ত্রধারী-বিতর্কিতরা জায়গা করে নিচ্ছে। বিতর্কিতদের সংগঠনে আনা ছাত্রলীগের জন্য অভিশাপ। চান্দগাঁও ও ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের বিতর্কিত দুই কমিটি ১০ মাসেও বিলুপ্ত হয়নি বা অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেয়নি। এছাড়া সম্মেলনের মাধ্যমে অন্যান্য থানা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 216 People

সম্পর্কিত পোস্ট