চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০

১৯ নভেম্বর, ২০২০ | ১:৫৩ অপরাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ,  কক্সবাজার

জালিয়াতিতে ‘জামশেদ চক্র’

কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসের দুর্নীতি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ঘুষ ছাড়া মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না। অভিযোগ আছে, পেশাদার চালকদের লাইসেন্স নবায়নে যোগ্যতা যাচাই বোর্ডের (ডিসিটিবি) অন্তর্ভুক্ত না করে ভুয়া নম্বর দিয়ে লাইসেন্স বের করে দেন কম্পিউটার  অপারেটরের নেতৃত্বে একটি চক্র। এছাড়া রাজস্ব জমা না দিয়ে আত্মসাত করা, লাইট লাইসেন্স থেকে মিডিয়াম লাইসেন্স না করে সরাসরি হেবি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটির প্রধান কক্সবাজার বিআরটিএ কম্পিউটার অপারেটর জামশেদ আলম। তাঁর সাথে বেশ কয়েকজন দালাল রয়েছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে কয়েকজন ভোক্তভোগী দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

কম্পিউটার অপারেটর জামশেদ আলম সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দেদারসে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, জামশেদ আলম কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত রয়েছে। এই সময়ে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ডিআরসি) ও লাইসেন্স ডাটা এন্ট্রিসহ ছবি তোলা এবং ডেলিভারি দেওয়ার সময় তিনি জনপ্রতি দুইশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত ঘুষ নেন। এছাড়া গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অপকর্ম ও জালিয়াতির সঙ্গে সে জড়িত হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা না দিয়ে বিদেশগামী এবং বিভিন্ন পেশার লোকজন থেকে আর্জেন্ট লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার প্রলোভনে লাইসেন্স প্রতি ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জামশেদের চক্রটি। একজন ভোক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কক্সবাজার বিআরটিএ কম্পিউটার অপারেটর জামশেদকে টাকা দিলে তিনি সব করে দিতে পারেন। সুযোগ বুঝে যার কাছে যত নিতে পারে সেইভাবে হাতিয়ে নেন তিনি। এছাড়াও মোটা অঙ্কের টাকা দিলে নমুনা ড্রাইভিং পরীক্ষা ছাড়াও লাইসেন্স করিয়ে দেন জামশেদ। রামু এলাকার বাসিন্দা জানে আলম বলেন, বিআরটিএ অফিস থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আন-ফিট যানবাহনগুলোকে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম টিপু বলেন, জামশেদ বিআরটিএ অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। ‘টাইগার আইটি বিডি’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার অপারেটর পদে দায়িত্বে রয়েছে জামশেদ আলম। এই দায়িত্বের সুবাদে অফিসের একটি কক্ষে বসে কাজ করেন। তবে টাকা লেনদেনের যে ভিডিও পাওয়া গেছে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উচ্চপদের কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

এবিষয়ে কক্সবাজার বিআরটিএ’র সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জামশেদ আলম পূর্বকোণকে বলেন, এনাম নামে এক দালালের কাজ না করে দেওয়ায় কৌশলে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। অনেক মানুষ বা অনেক দালাল আছে যারা কাগজগুলো তৈরি করতে পারে না, তাদের কাগজগুলো তৈরি করে দিলে খুশি হয়ে কয়েকশ টাকা দেয় মাঝেমধ্যে। এই টাকা নিতে গিয়ে আমি ঝামেলায় পড়ে গেছি। বিভিন্ন কৌশলে দালালগুলো অফিসে ঢুকে পড়ে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 66 People

সম্পর্কিত পোস্ট