চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৯ নভেম্বর, ২০২০ | ১২:১২ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী 

স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সামুদ্রিক টুনা’

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সামুদ্রিক টুনা মাছকে নিয়ে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ৬১ কোটি ৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি লং লাইনার প্রকৃতির ফিশিং ভেসেল ক্রয় ও পরিচালনা করা হবে। প্রণয়ন করা হবে গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মৎস্য আহরণের কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা। চলতি বছরের নভেম্বরে প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করাই হচ্ছে সরকারের মূল লক্ষ্য। এতে আয় বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মূলত তিন কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকা’র গভীর সমুদ্র ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা ও সমজাতীয় মাছের প্রাপ্যতা যাচাই ও আহরণে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, আহরণের মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন এবং প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি করা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চলতি বছরের জুলাইতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি সমগ্র চট্টগ্রাম জেলায় ২০২৩ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনামের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। দেশে বর্তমানে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ৪২ দশমিক ৭৭ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ মাছ মোট ৩৬ দশমিক ২২ লাখ মেট্রিক টন ও উপকূলীয় সামুদ্রিক মাছ ৬ দশমিক ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। তবে সমুদ্রে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে গভীর সমুদ্র থেকে টুনা মাছ সংগ্রহ করা হয় না। গভীর সমুদ্র থেকে টুনা মাছ আহরণ করলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উপরে উঠে যাবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। সূত্র আরো জানায়, দেশে ও বিদেশে টুনা মাছের অনেক চাহিদা। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক অর্থ আয় করা সম্ভব। সাধারণত বঙ্গোপসাগরে ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের টুনা মাছ ধরা পড়ে। মাঝে মাঝে এর চেয়ে আরো বড় সাইজের টুনা মেলে। জেলেরা মাছটিকে ‘মাইট্যা মাছ’ হিসেবে চেনেন। বাজারে এটি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে অত্যন্ত সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছটি বাংলাদেশে তেমন পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তাই সরকার টুনা মাছ আহরণে জোর দিয়েছে।

এদিকে আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার) মাছটিকে বিলুপ্তি হুমকির তালিকায় রেখেছে। টুনা মাছ প্রজাতিভেদে সর্বোচ্চ ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বড় সাইজের টুনা পাওয়া যায় আটলান্টিক মহাসাগরে। এছাড়া আরও সাত ধরনের টুনা মাছ রয়েছে যেগুলো দেড় থেকে ৩৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড. জোবাইদুল আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাগরের টুনা মাছের চাহিদা রয়েছে। দেশের বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সমুদ্রের জল সীমার অভ্যন্তরে টুনা মাছ আমাদের সম্পদ। সাগর থেকে আহরণের পর তা রফতানি করতে পারলে আমাদের রফতানি সমৃদ্ধ হবে। এতদিন এ মাছ আহরণে নিজেদের অভিজ্ঞা ছিল না। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়বে। সম্পদও আহরিত হবে।’

ড. জোবাইদুল আলম বলেন, ‘চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও এখনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। ২০২১ সালের জুলাইতে অর্থ বরাদ্দ হবে। এরপর প্রকল্পের জন্য দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, ট্রলার ক্রয়, অপারেশন, মৎস্য আহরণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে।’

 

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 85 People