চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৮ নভেম্বর, ২০২০ | ২:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, চবি

বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছি: ড. শিরীণ আখতার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তার, মুক্তচিন্তার উন্মেষ ও বিকাশ এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যাদের দৃঢ় প্রয়াস ও অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে প্রিয় এ প্রতিষ্ঠানটি, তাদেরকে আজকের এ দিনে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই।’ উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস করোনার দূর্দিন সামনে কেটে যাবে। বিপদ বিঘ্ন পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অতীতের ন্যায় আবারও মুখরিত হবে শিক্ষার্থীদের প্রাণ চাঞ্চল্যে, স্পন্দিত হবে মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধ চর্চার অদম্য প্রতিযোগিতায়।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আমাদের স্বপ্নের শেষ নেই। ইতোমধ্যে ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান আমরা হাতে নিয়েছি। প্ল্যানটাকে ৫ ও ১০ বছর করে ভাগ করেছি। প্রথম ৫ বছরে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আইটি পার্কের বাস্তবায়ন করা। এ পার্ক বাস্তবে রূপ নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোম্পানি আসবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার নতুন ধার উন্মোচন হবে। দ্বিতীয়ত মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিকায়ন করা, আমাদের যে ঝর্ণা আছে, সেখানে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ, চায়না বিশ^বিদ্যালয়কে রিসার্চের জন্য যে ১১ তলা ভবন দিবে, সেটি বাস্তবে রূপান্তরিত করা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সবুজ ক্যাম্পাসে একটি জলধার তৈরি করা, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনদিকে লেক স্থাপন ও লেকে মাছ চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং হল ও শিক্ষকদের আবাসিক ভবনগুলো সংস্কার করা। এছাড়া আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্ষদ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আরো বহুমুখী প্ল্যান হাতে নিয়েছি। আমরা চাই দক্ষিণাঞ্চলে সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। আন্তজার্তিক র‌্যাঙ্কিংয়ে, জ্ঞানে বিজ্ঞানে এবং অন্য সকল কর্মকা-ে যেন এগিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

অধ্যাপক শিরীণ আখতার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু কলরবে নয়, ছাত্রছাত্রী-শিক্ষকদের রিসার্চের দিকে নিবিড়ভাবে মনোযোগ দিতে চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে যেতে হলে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার পরিধিকে কিভাবে ব্যাপকহারে বিস্তৃতি করা যায় সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। বাংলাদেশের বিস্ময়কর অভিযাত্রার নিরবিচ্ছিন্ন সঙ্গী হয়ে এই জ্ঞানপীঠ যেন আরও বেশি করে পৃথিবীর সাম্প্রতিকতম জ্ঞানকে আয়ত্ত করার সাধনায় নিয়োজিত থাকতে পারে আর মৌলিক গবেষণার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান ও পরিবেশ উন্নয়নের যে প্রত্যয় তার বাস্তবায়ন ঘটুক- আসুন সেই প্রত্যাশায় আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০-কে সফল করে তুলি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 58 People

সম্পর্কিত পোস্ট