চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৬ নভেম্বর, ২০২০ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম 

সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামারে সীমাবদ্ধতার মাঝেও সাফল্য

অবকাঠামো ও পরিবেশ থাকলেও অভাব পর্যাপ্ত জনবলের। রাজস্ব খাতে না যাওয়ায় একেকবার একেক খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ আনতে হয়। শুরু থেকেই হোঁচট খেতে খেতে অবশেষে সাফল্য ধরা দিচ্ছে হাটহাজারীস্থ সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামারে।

এত সীমাবদ্ধতার মাঝেও খামারির কাছে মাত্র ১২শ টাকায় পাঁঠা বিক্রি করে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের দেশীয় ছাগল। খামারে এখন ছাগলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪শ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে ছাগল রয়েছে পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৩টি। ছাগলের খামার ২৭৭০টি। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৪০টি এবং অনিবন্ধিত ২৭৩০টি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর খামারটি ১৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ, দুস্থ গরিব মহিলা/খামারিদের মাঝে ছাগল বিতরণ, উপজেলাভিত্তিক বাক কিপারদের মাঝে পাঁঠা বিতরণ। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০০৯ সালের ৩০ জুন। সেই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করলে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে পুনরায় ৯০টি ছাগী ও ১০টি পাঁঠা নিয়ে খামারটি আবার চালু হয়। এছাড়া ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাভার ছাগল উন্নয়ন খামার, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ থেকে ২০টি পাঁঠা ও ১২০টি ছাগীসহ মোট ১৪০টি ছাগল পায় এই খামার। তবে গত অর্থ বছরে খামার থেকে ১২৯ টি ছাগল বিক্রি করা হয়। যার মধ্যে ৯৯টি পাঁঠা। বাকি ৩০টি ছাগী। শুধুমাত্র খামারিরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করে এখান থেকে পাঁঠা কিনতে পারেন। প্রতিটি পাঁঠার দাম ১২শ টাকা। কিন্তু ছাগলের খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যয় নির্বাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি। খামারের অনুকূলে কোন কোড না থাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ঢাকা হতে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়না। ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত দুগ্ধ ও গবাদি পশু উন্নয়ন খামার হাটহাজারী হতে, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ছাগল উন্নয়ন খামার সিলেট এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হতে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প হতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকা হতে সাভারস্থ ছাগল উন্নয়ন খামারের অনুকূলে খাদ্যের বাজেট দেয়া হয়েছে। জনবল সংকটে ধুঁকছে খামারটি

প্রকল্পে এই খামার পরিচালনার জন্য ১২ জন কর্মচারীর কথা উল্লেখ থাকলেও একজন কম্পিউটার অপারেটর এবং চারজন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে খামার চালু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত বেতন ভাতাদি বন্ধ থাকার কারণে কম্পিউটার অপারেটর ও শ্রমিকরা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং চাকুরি ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তিনজন গোট  এটেনডেন্ট এবং দুইজন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক প্রেষণে নিয়োজিত আছেন। খামারটি সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, একজন কম্পাউন্ডার, একজন স্টোর কিপার, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, একজন ড্রেসার, দুইজন সিকিউরিটি গার্ড এবং ১০ জন গোট এটেনডেন্ট প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

জানতে চাইলে খামারের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. নাবিল ফারাবী পূর্বকোণকে এই জাতের ছাগলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে। একটি ছাগী প্রথমবার একটি বাচ্চা প্রসব করে। পরের বার একসাথে দুই বা ততোধিক বাচ্চা প্রসব করে। বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়। খাদ্য কম খায়। মাংস সুস্বাদু। চামড়া খুবই ভাল। তাই খামারিরা লাভবান হতে পারেন। তাই তারা জাতটি সাধারণ খামারিদের মাঝে সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক পূর্বকোণকে বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছাগল লালন-পালন অন্যান্য গবাদি পশুর তুলনায় লাভজনক। অনেক সময় দেখা যায় গরু-মহিষের দাম কমে যায়। কিন্তু ছাগলের দাম সেভাবে কখনো কমে না। কারণ ছাগলের চাহিদা কখনোই কমে না। বাংলাদেশে যেমন ছাগলের চাহিদা আছে তেমনি আমাদের প্রতিবেশী দেশসমূহেও ছাগলের চাহিদা আছে। তাই সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ছাগল পালন করলে লাভ হওয়ার সুযোগ বেশি। খামারের জনবল এবং বাৎসরিক বরাদ্দ সংক্রান্ত যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা করছেন এই সমস্যার সমাধান হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট