চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৪ নভেম্বর, ২০২০ | ১২:১৪ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু 

মানহীন সেবা ও অনিয়মে বন্ধ হচ্ছে আরও ৫ ক্লিনিক-ল্যাব

অননুমোদিত, মানহীন সেবা এবং অনিয়মের কারণে বন্ধ হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর আরও পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কালো তালিকায় থাকা এ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির।

তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের তালিকায় ৫/৬ টি আছে। যারা মানহীন সার্ভিস দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যবিভাগ হার্ড লাইনে থাকবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। রেজিস্ট্রেশন থাকার পরও যদি ঠিকমতো সেবা না দেয়, কিংবা সাধারণ মানুষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না’। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোতেও অভিযান চলবে  বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, আগামীকাল (রবিবার) থেকে অবৈধ ও মানহীনসহ নগরীর হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টারগুলোতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে আবারও অভিযানে নামবে একটি টিম। এতে প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিক-ডায়াগনিস্টক সেন্টারগুলোতেও পরিদর্শন করা হবে। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।  সূত্র জানায়, নগরীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে লাইসেন্সবিহীনসহ নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টারগুলোতেও যদি কোন অনিয়ম পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সূত্র।

এর আগে গত বুধবার রাতে অননুমোদিত, মানহীন সেবা ও বিভিন্ন অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া হয় নগরীর চকবাজার থানাধীন চট্টেশ^রী এলাকায় অবস্থিত সিটি হেলথ ক্লিনিক নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল। পাশাপাশি কার্যক্রম বন্ধ করা হয় এ কে খানের আল আমিন হাসপাতালের এক্স-রেও। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় নিউ চাঁদের আলো নামে একটি ল্যাবের একাংশও বন্ধ করা হয়। যেখানে চিকিৎসকের চেম্বারের অনুমোদন নিয়ে পাশাপাশি রোগীদের ভর্তিও করাতেন কর্তৃপক্ষ। যা অঙ্গীকার বর্হিভূত ছিল বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নগরীরসহ চট্টগ্রাম জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে সর্বমোট ৫৮০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। যারা পূর্ব থেকেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিবন্ধিত তালিকায় আছে, এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স পেয়েছে দেড় শতাধিকের বেশি। আর শতাধিক হাসপাতাল ডায়াগনিস্টক সেন্টারে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলো আমাদের পরিদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ঠিক কতগুলো কালো তালিকার মধ্যে আছে, তার চূড়ান্ত হিসেব করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বকোণকে বলেন, ‘যেগুলো এখন পর্যন্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে, আপাতত তাদেরকে কালো তালিকায় ধরা হবে না। তবে কোন অনিয়ম যদি থাকে, তাহলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এছাড়া ইতোমধ্যে যারা লাইসেন্স পেয়েও গেছে, তবুও যদি অনিয়ম পাওয়া যায়, এসবের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ পুরোপুরি জিরো টলারেন্স’।

এদিকে, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামসহ বিভাগের ১১ জেলার সিভিল সার্জনকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। অনলাইনের মাধ্যমে বিশেষ সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সাথে এখন পর্যন্ত কতগুলো বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনিস্টক সেন্টারের আবেদন করেছে এবং কতগুলো সবকিছুই ঠিক আছে, এছাড়া কতগুলো আবেদন করেনি, কতগুলো অপেক্ষমান অথবা কতগুলো কালো তালিকায় আছে, সব বিষয়ে দু-একদিনের মধ্যে তথ্য পাঠাতেও নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির পূর্বকোণকে বলেন, ‘তথ্য হাতে এলেই সময় নিয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হবে।  তাড়াহুড়ো করে প্রকাশ করবো না। অলরেডি যেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিভাগ হার্ড লাইনে থাকবে।  সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 120 People

সম্পর্কিত পোস্ট