চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৩ নভেম্বর, ২০২০ | ৩:১৫ অপরাহ্ণ

হুমায়ুন কবির কিরণ

পরিচয় সংকটে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম !

বিশ্বের ৮২তম টেস্ট ভেন্যু, এই ভেন্যুতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পেয়েছিল নিজেদের ইতিহাসে সাদা পোশাকের প্রথম জয়। জহুর আহমদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ক্রিকেট পাকাপাকিভাবে চলে যাওয়ায় এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয় না বললেই চলে। তারপরও ভেন্যুটির গৌরবগাঁথা একটিমাত্র প্রতিবেদনে প্রকাশ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

আশীষ ভদ্র থেকে শুরু করে এফ আই কামাল থেকে আজকের মামুনুলরা এই ভেন্যুতে খেলেই জাতীয় পর্যায়ে দাঁপিয়েছেন। আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, নুরুল আবেদীন নোবেল, নাফিস ইকবাল থেকে শুরু করে আজকের বিশ্ব তারকা তামিম ইকবালের ক্রিকেটীয় জন্ম এই ভেন্যুর সূত্রেই। এই ভেন্যুতেই বাংলাদেশের প্রথম কোন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট পিসিএল গড়িয়েছিল।

বিপিএল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ফুটবলের অনেক বড় টুর্নামেন্ট এমনকি এএফসি কাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরের সফল আয়োজনও দেখেছে এই ভেন্যু। ভেন্যুটির নাম চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। শুধু ফুটবল ক্রিকেটই নয়, জাতীয় পর্যায়ে বহু তারকা এথলেটের উত্থান এই এম আজিজ স্টেডিয়ামেই।

এক সময় শ্রীহীন থাকা এম এ আজিজ স্টেডিয়াম বর্তমানে অনেক আধুনিক। সার্বিক সুযোগ সুবিধার কমতি সামান্যই। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, ভেন্যুটির নাম যে এম আজিজ স্টেডিয়াম তার কোন প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকে। সন্ধ্যার পর নিত্য মানবজট ও যানজটে প্রায় স্থবির হয়ে থাকা প্রধান গেটে আশপাশে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের নাম রঙিন বর্ণমালায় ঝলমল করলেও সেখানে অনুপস্থিত স্টেডিয়ামটির নামফলক, বিস্ময়কর নয় কি!

মরহুম জননেতা এম আজিজ’র ভাস্কর্যের পিছনের দেয়ালে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি লোগো বর্তমান হলেও অজ্ঞাত কারণে নেই তাঁর নামেই স্টেডিয়ামটির নাম। সরেজমিনে স্টেডিয়াম ঘুরতে গেলে পিছনের অংশে গেইটে (জিমনেশিয়াম সংলগ্ন) একটি নামফলক পাওয়া গেলেও আরও কোথাও ভেন্যুটির নামের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

বলে রাখা ভালো, জিমন্যাশিয়াম সংলগ্ন পিছনের গেইটটি খুব একটা ব্যবহার করা হয় না। গেইটটি সামনের অংশ হঠাৎ দর্শনে মনে হবে মিনি ট্রাকের স্ট্যান্ড। অনেকের অভিযোগ সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডাও জমে। সচেতন মহল বিষয়টির প্রতি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের ব্যস্ততম এলাকা হচ্ছে চট্টগ্রাম ক্লাব ও শিশুপার্কের মাঝের অংশ দিয়ে বিপরিত প্রান্তে থাকা স্টেডিয়ামের প্রধান গেইট। সেখানে ভেন্যুটির নামের কোন অস্তিত্বই নেই! শহরে নতুন আসা যে কেউ উক্ত এলাকায় গেলে চটজলদি এলাকাটিকে খাবারপাড়া বলেই মনে করতে পারেন।

এর দুটি কারণ, প্রথমত. ভেন্যুর নামের কোন নেম প্লেইট না থাকা, দ্বিতীয়ত. স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের পাশে খাবারের দোকানের কারনে নিত্য মানবজট ও যানজট লেগে থাকা। হঠাৎ দর্শনে ফটক এলাকাটি ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিক্সা ও রিক্সা স্ট্যান্ড মনে করে ভুল হতেই পারে। যে সকল ক্রীড়াবিদ বা সিজেকেএস কর্মকর্তারা সন্ধ্যার পর ভেন্যুটিতে যান তাদের প্রায়ই কসরত করেই প্রধান ফটক এলাকা অতিক্রম করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাসের সাথে। তিনি বলেন, স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় প্রধান ফটকের পাশে জননেতা এম এ আজিজ-এর একটি ম্যুরাল আছে, অথচ তার নামের স্টেডিয়ামের কোন নাম ফলক নেই, বিষয়টি বিভ্রান্তিকর।

তিনি যোগ করেন, চাইলেই কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থা কর্তৃপক্ষ আধুনিক স্থাপত্যে নাম ফলক স্থাপন করতে পারেন, সেটা প্রধান ফটকে এবং মূল ভবনেও। তিনি বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ প্রসঙ্গে সিজেকেএস সহ-সভাপতি লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি পূর্বকোণকে জানান, বিষয়টি সমাধানে এরইমধ্যে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সংস্থার সাধারন সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করা মাত্রই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে কাজ শুরু করবো।

পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধান ফটকে জননেতা এম এ আজিজ-এর আধুনিক একটি প্রতিকৃতিসহ স্টেডিয়ামের নামফলক স্থাপন করা হবে। একই সাথে ফটক এলাকাটি যানজট ও মানবজট দূর করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 83 People

সম্পর্কিত পোস্ট