চট্টগ্রাম বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১২ নভেম্বর, ২০২০ | ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবস্থাপক ও নার্স আটক

সিটি হেলথ ক্লিনিক সিলগালা

অভিযান চলবে: সিভিল সার্জন

  • অনুমোদন নেই, নেই পরিবেশ ছাড়পত্রও
  • চিকিৎসক অনুপস্থিত, নার্স ডিপ্লোমাহীন
  • আল-আমিন ডায়াগনস্টিকেও পরীক্ষা বন্ধ

স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদনই নেই। নেই পরিবেশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্রও। তবুও দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে নগরের বেসরকারি হাসপাতাল সিটি হেলথ ক্লিনিক। শুধু কি তাই, নেই ডিপ্লোমাধারী কোনো নার্সও। অকেজো মেশিন আর নোংরা পরিবেশের মধ্যেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলে। মজুদ আছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও। এতসব অভিযোগের প্রমাণ মেলায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। তবে হাসপাতালে থাকা রোগীদেরকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা সেখ ফজলে রাব্বির নির্দেশে বন্ধ করা হয় নগরের চকবাজার থানধীন চট্টেশ্বরী রোডের সিটি হেলথ ক্লিনিকটি। একই সাথে ক্লিনিকের দুই কর্মকর্তাকে আটকও করা হয়।
এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ.কে খান এলাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল আল আমিন হাসúাতালেও অভিযান চালায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি টিম। যদিও হাসপাতালটির কাগজপত্র ঠিক ছিল, তবে এক্সরে পরীক্ষার রুমে অব্যবস্থাপনা ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি অকেজো হওয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়, সারাদেশে অনুমোদন ছাড়া চলা সব হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে গত সোমবার দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে নির্দেশ গেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে। এরমধ্যে গত গত ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার সিভিল সার্জনদের সাথে জরুরি বিশেষ মিটিংয়ে অবৈধ/অনিবিন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই শুরু হয় অভিযান।
অভিযানের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সিটি হেলথ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে হাসপাতালটিতে কোনো চিকিৎসক নেই। পাশাপাশি বহুদিন ধরে তাদের লাইসেন্সও নবায়ন করা হয়নি। হাসপাতালের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর। এছাড়া তাদের হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। তাই সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছি। সেখানে থাকা ৭ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসা দিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসúাতালসহ অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে সবগুলোর বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। কোনো রকম অনিয়ম ও ত্রুটি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সিটি হেলথ ক্লিনিকে সম্প্রতি এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ও এক নার্সকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
চকবাজার থানার ওসি রুহুল আমীন পূর্বকোণকে বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সিটি হেলথ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। এসময় দুইজনকে আটক করা হয়। তবে এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিস্তারিত জানানো হবে।

শেয়ার করুন
  • 21
    Shares
The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট