চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৬ নভেম্বর, ২০২০ | ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিয়ের দুই মাসের মাথায় লাশ

বিয়ের দুই মাসের মাথায় লাশ হলো সুপ্তি মল্লিক। পুলিশের ধারণা সুপ্তিকে  শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। সুপ্তির  পরিবারের দাবি- স্বামীর পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ পানওয়ালা পাড়ার নাসিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের ভাড়া বাসা থেকে সুপ্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট পটিয়ার বাহ্মনহাট বাজার এলাকার বাসুদেবের সাথে সুপ্তির বিয়ে হয়। বাসু একটি ফার্মেসিতে চাকুরি করেন।

এ ঘটনায় সুপ্তির বাবা সাধন কুমার মল্লিক বাদি হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুপ্তির ভাসুর অনুপম চৌধুরী (৩৮) ও বাসুদেব চৌধুরী (৩৫) কে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। পুলিশের ধারণা বুধবার বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুইজন ছাড়াও পুলিশ ৩৫ বছরের এক যুবককে খুঁজছে। ওই যুবককে ঘটনার সময়ে সুপ্তির বাসায় এসেছিলো।

নগর পুলিশের পশ্চিম জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হুমায়ন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সুপ্তি মল্লিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠনো হয়েছে। সুপ্তার স্বামী ও ভাসুরকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আটক করা হয়েছে।  তবে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, নেপথ্যে কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেশী যা বললেন : নাসিমা মঞ্জিল নামে ওই ভবনের চার তলা দুটি রুমের একটিতে স্বামীর সাথে থাকতেন সুপ্তি। অন্য রুমে ভাসুর অনুপম থাকতেন। একই ফ্লোরে বসবাসরত প্রতিবেশী ফাতেমা বলেন, বুধবার  বেলা তিনটার দিকে সুপ্তি আমার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো। ওই সময় আনুমানিক ৩০ বছরের কাছাকাছি এক যুবক এসেছিলো। সুপ্তি ওই যুবককে আঙ্কেল পরিচয় দিয়ে বলেছিলো-উনি ভাত খেতে এসেছেন। দুপুর বারোটার দিকে একবার এসে  খাবারের কথা বলে গিয়েছিলেন।

প্রতিবেশী এ মহিলা বলেন, সুপ্তি যখন ওই যুবককে নিয়ে বাসায় ঢুকছিলেন তখন চা খাওয়াতে বলেছিলেন। আমার  মেয়ে দুই কাপ চা নিয়ে ওদের রুমে দিয়ে এসেছিলো। বিকেল  সাড়ে পাঁচটার দিকে যখন  সুপ্তির কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না তখন দরজার পর্দা সরিয়ে দেখি দরজার বাইরে থেকে সিটিকিনি লাগানো। বেশ কয়েকবার নাম ধরে ডাকলেও কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পাশের বাসার ভাবী দরজার ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে দেখেন  ভেতরে সুপ্তির জুতা রয়েছে। জুতা ভেতরে বাইরে দরজা লাগানো দেখে সন্দেহ হয়। পরে দারোয়ান ইলিয়াসকে জানালে  সে এসে দরজা খুলে দেখে সুপ্তির মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

সুপ্তিকে তার স্বামী ও ভাসুর হত্যা করেছে এমনটি দাবি করছেন ভাই প্রসেনজিৎ মল্লিক। সুপ্তির সাথে কারো সম্পর্ক ছিলো কিনা জানতে চাইলে প্রসেনজিৎ জানান, ‘ বোন রাঙামাটি সরকারি কলেজে অনার্সে পড়ার সময় এক মুসলিম যুবকের সাথে সম্পর্ক ছিলো।  প্রায় আড়াই বছর আগে সেই সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে।  বিয়ের আগে বিষয়টি বাসু দেবকে আমরা জানিয়েছিলাম। তিনি সেটিকে কোন সমস্যা হিসাবে নেয়নি।

থানায় দায়ের করা মামলা এজাহারে সাধন কুমার বলেন, এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সুপ্তি বড়। চন্দ্রঘোনা হরিমন্দিরের পাশে তাদের বাসা।  গত ১৩ আগস্ট বাসু দেবের সাথে সুপ্তির বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই স্বামী তাকে পটিয়ায় নিয়ে আসেন। বিয়ের ৩/৪দিনের মাথায় সুপ্তি তার বাবাকে জানান, বাসুর সাথে একাধিক মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করতো।   মেয়েকে তারা ধৈর্য্য ধারন করতে পরামর্শ দেন। বিয়ের দশদিনের মাথায় সুপ্তি তার স্বামীর সাথে ডবলমুরিং থানার পানওয়ালা পাড়ায় নছিমা মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় ৫৩ নম্বর বাসায় চলে আসেন। ওই বাসার একটি রুমে ভাসুর অনুমপম চৌধুরীও থাকতেন। বাসু জামালখান এলাকায় একটি ফার্মেসি ও অনুপম   সেলুনে চাকরি করেন। বুধবার রাত আটটার সময় খবর পেয়ে তারা পানওয়ালা পাড়ায় আসেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় সুপ্তির বাসার দরজা বাহির থেকে হুক লাগানো ছিলো। পরে স্বামী বাসুদেব ও অনুপম চৌধুরী এসে দরজা খুলে দেখতে পান সুপ্তির মৃতদেহ বিছানায় পড়ে আছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 132 People

সম্পর্কিত পোস্ট