চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

৬ নভেম্বর, ২০২০ | ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ 

পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়ছে বিদেশি বন্দরে

বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো পোর্টে আমদানি ও রপ্তানির উভয় ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়ছে। করোনায় অনেকটা স্থবির থাকার পর সিঙ্গাপুর ও কলম্বো পোর্টের ব্যস্ততা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে এসব পোর্টে সৃষ্টি হচ্ছে জাহাজ জট। বর্তমানে পণ্য পরিবহনে ওই বন্দরগুলোতে প্রতিটি জাহাজকে ৩ থেকে ৫ দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সেই অপেক্ষায় থাকা সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ফিডার জাহাজ অপারেটরগুলো কন্টেইনার প্রতি খরচ বাড়াচ্ছে।

 বাড়তি চার্জ আরোপের বিষয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাদের চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে ফিডার অপারেটররা। ক্রান্তিকালে হঠাৎ এমন বাড়তি খরচের খবরে উদ্বিগ্ন দেশীয় ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, পণ্য পরিবহনে আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর রুটে পণ্যবাহী কন্টেইনার প্রতি ৭৫ ডলার ও খালি কন্টেইনার প্রতি ৩৭ ডলার বাড়ানো হচ্ছে। এর পরদিন ১৬ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ-কলম্বো রুটে পণ্যবাহী কন্টেইনার প্রতি ৭৫ ডলার ও খালি কন্টেইনার প্রতি ৩৫ ডলার বাড়ানোর কথা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ-পোর্ট কেলাং রুটে এই চার্জ বাড়ানোর কথা রয়েছে ২০ নভেম্বর থেকে। তবে আরোপ হতে যাওয়া ‘ইমার্জেন্সি কস্ট রিকভারি সারচার্জ (ইসিআরসি)’ সাময়িক সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানায় ফিডার জাহাজ অপারেটর সূত্র। বিদেশি পোর্টগুলোতে জাহাজ জটের সমাধান হয়ে গেলে ওই চার্জ বাতিল করা হবে। বাংলাদেশ থেকে আমদানি-রপ্তানির পণ্য ইউরোপ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে যেতে তিন দেশের চার বন্দরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। এসবের মধ্যে বাংলাদেশের মোট পণ্যের ৪৪ শতাংশ যায় সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে। এছাড়া ৩৭ শতাংশ শ্রীলংকার কলম্বো পোর্ট, ১২ শতাংশ মালেয়শিয়ার তানজং পেলাপাস বন্দর ও বাকি ৭ শতাংশ পণ্য একই দেশের পোর্ট কেলাং দিয়ে পরিবহণ করতে হয়। এসব রুটে খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে দেশীয় ব্যবসায়ীরা।

এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, জাহাজ জট সিঙ্গাপুর ও কলম্বো পোর্টে। বাংলাদেশে তো নয়। তাহলে কেন এর খেসারত দেশীয় ব্যবসায়ীরা দেবে! সুতরাং বাড়তি এই চার্জ ব্যবসায়ীদের উপর আরোপ করা অযৌক্তিক। এতে আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে। আর পণ্য রপ্তানিতে দেশীয় ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে যাবে।

রপ্তানি প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি এম এ সালাম পূর্বকোণকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে করোনার কারণে পণ্যের দাম এমনিতেই কম। পোশাক রপ্তানি করে যা আয় হয় তা দিয়ে খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তার উপর পণ্য পরিবহন খরচ আরো বাড়লে পোশাক শিল্পের মালিকেরা আন্তর্জাতিক বাজারে কোনভাবেই টিকে থাকতে পারবে না। তাই এই ক্রান্তিকালে এ ধরণের চার্জ বাড়ানোটা অযৌক্তিক।

এদিকে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন পূর্বকোণকে বলেন, হঠাৎ করে শিপিংয়ে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়লে পুরো সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত ঘটবে। কারণ এমনিতেই প্রতিটি সেক্টরে কারখানা থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সবাই করোনার কারণে ক্ষতিতে আছে। একথাও সত্য ক্ষতির বাইরে শিপিং এজেন্টরাও নেই। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়লে সবাই অতিরিক্ত চাপে পড়ে যাবে। তাই পরিবহন খরচে বাড়তি চার্জ আরোপ করা সুখকর হবে না।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 121 People

সম্পর্কিত পোস্ট