চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০

১ নভেম্বর, ২০২০ | ১:৩৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

কবিরাজের কথা বলে পাহাড়ে নিয়ে স্ত্রী জেসমিনকে হত্যা

কবিরাজের কাছে নিয়ে যাবার কথা বলে আকবরশাহ থানার গ্যাস লাইন এলাকায় পাহাড়ে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফরহাদ ও তার মামা সেলিম। হত্যার পর জেসমিন নামে ওই গৃহবধূর লাশ পাহাড়ের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর জেসমিন নামে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের আড়াইজার থানার মাউরাদি থানা এলাকা থেকে ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে আকবর শাহ থানা পুলিশ। পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসেন জানান, গত ২ অক্টোবর বেলা দুইটার সময় ইয়াছিন আরাফাত অপু নামে এক ব্যক্তি জানান, আকবরশাহ থানার হারবাতলি গাস লাইনের নুর  হোসেনের বাড়ির ৫০ গজ দক্ষিণে ঝোপের ভেতরে

একজন অজ্ঞাতনামা মহিলার গলিত মৃতদেহ দেখতে পান। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পর লাশের পাশে মার্ক ফ্যাশন ওয়্যার (প্রা.) লিমিটেডের একটি পরিচয়পত্র, জোড়া স্যান্ডেল, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও ব্যাগের মধ্যে কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়। পরে মার্ক ফ্যাশনে যোগাযোগ করলে  মহিলার পরিচয় শনাক্ত হয়। মৃতদেহের পরনের কাপড় দেখে ভাগিনা শাহাদাত হোসেন ও ভাই মনির হোসেন জেসমিনের লাশ শনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে মনির বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এসি আরিফ  জানান, ২৮ অক্টোবর রাতে নারায়নগঞ্জ থেকে জেসমিনের স্বামী ফরহাদ ও তার মামা সেলিম ওরফে মনির ওরফে অজিউল্ল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জেসমিন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

আকরবশাহ থানার পরিদর্শক (ওসি) জাহির হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিনমজুর ফরহাদ জানিয়েছে, তার নিজ বাড়ি ভোলার তজুমুদ্দিনে। বহদ্দারহাট এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তার স্ত্রী ভোলায় থাকেন। এরমধ্যে গার্মেন্টসকর্মী জেসমিনের সাথে পরিচয়। পরিচয়েসূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিছুদিন পর ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে  ফরহাদের সাথে জেসমিনের বিয়ে হয়। তবে তারা আলাদা থাকতেন।

ফরহাদের দাবি, প্রথম স্ত্রীর থাকার পরও দ্বিতীয় বিয়ে করায় তিনি উভয় সংকটে পড়েন। ভোলায় প্রথম স্ত্রী, জেসমিনের সাথে বিয়ে তার উপর ছয় লাখ টাকা কাবিন সবকিছু মিলিয়ে তার মধ্যে হতাশা কাজ করে। তার মাথায় আসে জেসমিনকে যদি হত্যা করা যায় তবে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২১ সেপ্টেম্বর কবিরাজের কাছে যাবার কথা বলে জেসমিনকে নিয়ে একেখান হয়ে হারবাতলি গ্যাস লাইন এলাকায় পাহাড়ে যায় ফরহাদ। সেখানে আগে থেকে তার মামা সেলিম অপেক্ষা করছিলেন। পাহাড়ের টিলায় উঠে হাঁটার ছলে জেসমিনের গলা চেপে ধরে ফরহাদ। মামা সেলিম মুখ চেপে ধরে । কিছুক্ষণের মধ্যে মারা গেলে জেসমিনের লাশ ঝোপের ভেতরে ফেলে দেয়।

ওসি জহির জানান, ফরহাদ প্রথমে ভোলা চলে গিয়েছিলো। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর নারায়নগঞ্জে চলে যায়।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 150 People

সম্পর্কিত পোস্ট