চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

৩০ অক্টোবর, ২০২০ | ১:১০ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

শখের গাছে খ্যাতি, পুরস্কারের ঝুড়ি

পাহাড় কোলে জন্ম। পাহাড়েই গড়াগড়ি, বেড়ে উঠা। ছিল স্বপ্ন-সাধনা। একাগ্র, কর্মস্পৃহা ও ইচ্ছেশক্তির গুণেই রচনা করলেন স্বাপ্নিক গল্প। পাহাড় জয়ে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। যা তাকে নিয়ে গেছে উচ্চ শিখরে। বলছিলাম, বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামের মোজাম্মেল হক বকুলের কথা।

২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার গলায় পরিয়ে দেন ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার’র পদক। এছাড়াও পাহাড় জয়ে একাধিক জাতীয় পদক পেয়েছেন তিনি। বৃক্ষ রোপণে একাধিক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মোজাম্মেল পাহাড়ে এবার মৎস্য বিপ্লবের সূচনা করেছেন। গহীন পাহাড়ে বৃষ্টি ও ছড়ার পানি ধরে বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করেছেন। অন্তত ৫ কিলোমিটার ভেতরে বোয়ালখালী উপজেলা থেকে চারদিকে পাহাড়। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে নানা ফলমূলের বাগান। পাহাড়ের নিচে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ের পানি ধরে মাছ চাষ করা হয়েছে। পাহাড়ি ছড়ার সঙ্গে গেট বাল্ব বসানো হয়েছে। বর্ষা বা অতিবৃষ্টিতে পুকুরের পানি মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা কমাতে এই গেটবাল্ব বসানো হয়েছে।

 

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মোজাম্মেল হক বকুল বলেন, ‘প্রায় ৫ একরের মতো জায়গা সৃষ্টি করা হয়েছে। আরও বড় আকারে করার ইচ্ছে রয়েছে।’ পুকুরে নানা ধরনের মাছ চাষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শুধু মৎস্য চাষ নয়, তার রয়েছে ৮ টি বাগান। এসব বাগান থেকে বছরে ১০-১২ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেন তিনি। এছাড়া গাছের বাগান রয়েছে ৪ টি।

 

যেভাবে শুরু : ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে দাখিলের নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ করেছেন। এরই ফাঁকে শখেরবশে এক চিলতে পাহাড়ি ভূমিতে গাছের চারা রোপণ করেছেন তিনি। জায়গাটি নানার রায়তি (মৌরশি)। প্রতিটি চারা কিনেছেন দেড় টাকা করে। টিউশনির টাকায় গাছের চারা কিনেছেন। পাঁচশ চারা রোপণ করেছেন। বর্তমানে ৮টি বিশাল বাগানে ফলদ, বনজ, ঔষধিসহ নানা জাতের গাছের চারা রোপণ করেছেন। সেই দেড় টাকার গাছের চারা এখন আলাদ্দিনের চেরাগ। শখের গাছ এনে দিয়েছে খ্যাতি, পুরস্কারের ঝুড়ি।

মোজাম্মেলের দেখাদেখিতে জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ে গাছের বাগান করেছেন অনেকেই। বদলে যায় জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ি এলাকার চিত্র। ফলমূল থেকে শুরু করে এখন শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের বাগান। ছোট-বড় সাত শতাধিক বাগান গড়ে উঠে। যার সাথে জড়িত অন্তত ১০ হাজার পরিবার। এসব বাগানে পেয়ারা, পেঁপে, আম, জাম, লিচু, আমলকি, জলপাই, জামবুরাসহ নানা জাতের গাছ।

সমন্বিত খামার : পাহাড়ে মাছ চাষ ও গরুর খামারসহ সমন্বিত খামার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘদিনের। গত বছর থেকে শুরু করেছেন মাছের চাষ। পাহাড়ের অকেজো ঢালু জমিতে মাছের চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারি কোনো আর্থিক সহায়তা তিনি পাননি। কয়েক বছর আগে ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা পেয়েছিলেন। সরকার কৃষির জন্য বড় বাজেট রাখলেও প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীরা এর সুফল ভোগ করতে পারছেন না।

সামাজিক বনায়নে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-২০১৩ পুরস্কার’ পান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ পুরস্কার নেন। ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণেও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও একাধিক পদক লাভ করেছেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 148 People

সম্পর্কিত পোস্ট