চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

৩০ অক্টোবর, ২০২০ | ১২:১৭ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

৬ বছরেও সিসি ক্যামেরার আওতায় আসেনি নগরী

ছয় বছরেও নগরীর পুরো এলাকা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) আওতায় আনতে পারেনি চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। অপরাধ দমন ও অপরাধী খোঁজা কিংবা আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে সিসি ক্যামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এমন নজির রয়েছে। তবে এ ক্যামেরা বসানো কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে পুলিশের বাজেট নেই।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এম মোস্তাক আহমেদ খান জানান, আমরা চেষ্টা করছি পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে। বর্তমানে নগরীতে ১৫৮টি ক্যামেরা বসানো আছে। এরমধ্যে সচল আছে ১১২টি। ক্যামেরা বসানোর পর রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরি।

 

খুঁটি, ফাইভার কেবল, ক্যামেরা সবকিছুই ব্যয়বহুল। কিন্তু সিসি ক্যামেরা বসাতে সিএমপির কোন বাজেট নেই। তবে ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নগর পরিকল্পনার সাথে যুক্ত করতে চেষ্টা চলছে। ঢাকার গুলশানে এক হাজার সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে জনগণের সহযোগিতায়। সিএমপির পশ্চিম জোনের অধিকাংশ এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যেই নগরীতে সিসি ক্যামেরার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে এমনটি আশা করছি আমরা। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের পর ২০১৪ সালে নগরীতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেয় সিএমপি। নগরীর সাতটি প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি স্থানে ১৩৯টি ক্যামেরা লাগানো হয়। কয়দিন পরই নষ্ট হয়ে যায় ৬০টি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছিলো সিএমপির সদর দপ্তরে। সিসিএলের সহযোগিতায় চালু করা এসব ক্যামেরা বিলবোর্ড উচ্ছেদের সময় নষ্ট হয়ে যায়।

২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের সম্মেলন কক্ষে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, রাস্তা বা অন্য স্থাপনার আগে আমি বিভিন্ন থানায় সিসি ক্যামেরা লাগাবো। থানার ভেতরে ও বাইরে কি হচ্ছে তা যেন আমি অফিসে বসে দেখতে পাই। ইকবাল বাহার পরবর্তী সিএমপিতে কমিশনার হিসাবে যোগ দেন মাহবুবর রহমান। তিনি চেষ্টা করেছেন পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ডবলমুরিং থানা এলাকায় স্থাপিত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নেটওয়ার্ক কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন ‘শহরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে সিসি ক্যামেরা। সিএমপির স্বপ্ন নগরবাসীর নিরাপত্তায় ও তাদের সহায়তায় পুরো শহরকে এক মাসের মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। সিএমপির ট্রাফিক সিস্টেমও সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছিলেন সাবেক পুলিশ কমিশনার।

গত সেপ্টেম্বর মাসে সিএমপির নতুন কমিশনার হিসাবে যোগদেন সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। যোগদানের পর পর তিনিও নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার বিয়ষটি নজর দেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে মিড দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি থানায় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিন থেকে চারটি ক্যামেরা থাকবে। থানায় কে আসল কে গেল সেটা মনিটরিং করা হবে। তবে থানা তো পাবলিক অফিস, এখনে যে কেউ আসতে পারে। আমরা খেয়াল রাখবো যে, থানায় যাতে আইনের বাইরে ব্যক্তির প্রভাবে কোন কাজ না হয়।

সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে পুলিশের বাজেট না থাকায় ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) চিঠি দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিন বছরেও দুই সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসেনি। সিসি ক্যামেরা স্থাপনে আপাতত ধনাঢ্য ব্যক্তি কিংবা কর্পোরেট হাউসের উপর ভরসা করতে হচ্ছে সিএমপিকে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 95 People

সম্পর্কিত পোস্ট