চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০

নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম হাবিবুর রহমান কাসেমী, বহিষ্কার ১৩ শিক্ষক

২৮ অক্টোবর, ২০২০ | ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

নাজিরহাট সংবাদদাতা

নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম হাবিবুর রহমান কাসেমী, বহিষ্কার ১৩ শিক্ষক

চট্টগ্রামের নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার নতুন মুহতামিম (পরিচালক) হিসেবে শায়খুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমান কাসেমীকে মনোনীত করা হয়েছে। একইসাথে মাওলানা ইয়াহিয়া নায়েবে মুহতামিম ও মাওলানা ইসমাইলকে মুঈনে মুহতামিম মনোনীত করা হয়।

এছাড়াও মাদ্রাসা থেকে মাওলানা সলিম উল্লাহসহ ১৩ শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষকরা হলেন- মাওলানা সালাহ উদ্দীন, মুফতি হাশেম, মাওলানা মিজান, মাওলানা নুরুল আলম নছরি, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, হাফেজ ইদ্রিস, হাফেজ আব্দুল কাদের, মাওলানা ইয়াছিন, মাওলানা আলী আকবর, আমির হোসেন, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা হারুনর রশিদ।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত নাজিরহাট মাদ্রাসায় শুরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বৈঠক শেষে ঢাকার খিলগাঁও মাদ্রাসার মুহতামিম নুরুল ইসলাম জিহাদী শুরার নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন।

বৈঠকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নাজিরহাট মাদ্রাসার মোতাওয়াল্লী, হাবিবুল্লাহ নদভীকে শিক্ষা সচিব করা হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, পটিয়া মাদ্রামার মুহতামিম আবদুল হালিম বোখারী, জিরি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খোবাইব, ওলিহা মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা আনোয়ার, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মাওলানা ওমর ফারুক, মেখল মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নোমান ফয়েজী, হাটহাজারী মাদ্রাসার মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, বাবুনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, ওবাইদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম সালাউদ্দিন, ঢাকার বসুন্ধরা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আরশাদ রহমান, খিলগাঁও মাদ্রাসার মুহতামিম নুরুল ইসলাম জিহাদী, তালিমুদ্দিন মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ কাসেম, নাজিরহাট মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম হাবিবুর রহমান কাসেমী, ফতেপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাহমুদুল হাসান। তবে চারিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আবদুল্লাহ, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্যানেল মুহতামিম মুফতি শেখ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন না।

জানা যায়, মাদ্রাসার পরিচালক পদ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলে আসছিল। এ নিয়ে মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, মামলা-মোকাদ্দমার ঘটনাও ঘটে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ‘মুহতামিম’ দাবিদার মাওলানা সলিমুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় ছাত্রদের একাংশ মাওলানা সলিমুল্লাহকে ‘মুহতামিম মানি না, শুরা চাই, শুরা চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রদের একটি অংশ স্লোগানধারীদের সরিয়ে দিতে চাইলে উভয়পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মাদ্রাসার পরিচালক বা মুহতামিমের পদ নিয়ে মাওলানা সলিমুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান কাসেমীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সলিমউল্লাহ মরহুম আহমদ শফির অনুসারী ও হাবিবুর রহমান হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/মুন্না-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 168 People

সম্পর্কিত পোস্ট