চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৭ অক্টোবর, ২০২০ | ১২:১৮ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

ওয়াসাকে থামিয়ে দিল সিডিএ

নগরীর হালিশহরে ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ‘শত বছরের’ পুরোনো চৌচালা সড়ক বন্ধ করতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা। নগরীর ৩৭ নং মুনির নগর ওয়ার্ডের চৌচালা মোড় থেকে রিং রোড (পুরাতন বেড়িবাঁধ) পর্যন্ত আধা কিলোমিটারের বেশি এই সড়কে দৈনিক ৫-৭ হাজার গাড়ি চলাচল করে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়কটি বন্ধ করে দিলে স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য এলাকায় বিকল্প কোন রাস্তা থাকবে না। অন্যদিকে চৌচালা সড়ক বন্ধ করে দিলে শহরের যানজট বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সিডিএ’র ইমারত নির্মাণ কমিটি ওয়াসাকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। এছাড়া, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে ওয়াসাকে নির্দেশ দিয়েছে সিডিএ। সড়কের জায়গা ওয়াসা কর্তৃক একোয়ারকৃত এবং বর্তমান চৌচালা সড়ক রেখে কোনভাবেই স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

‘হালিশহর সচেতন নাগরিক সমাজ’ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মো. এনামুল হক মুনিরী বলেন, চৌচালার মত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ওয়াসা বেআইনিভাবে বন্ধ করে দিতে চায়। বেড়িবাঁধের পাশে স্থানীয়দের নিজস্ব জায়গায় মৎস্য ও গবাদি পশুর খামার, সবজি ক্ষেত আছে। সড়কটি বন্ধ করে দিলে স্থানীয়রা সেখানে কীভাবে যাবে। চৌচালা সড়ক বন্ধ করে দিলে এই সড়ক ব্যবহারকারী ৫-৭ হাজার যানবাহন কীভাবে যাতায়াত করবে। এরফলে সিটিতে যানবাহনের চাপ পড়তে এবং প্রচুর যানজট সৃষ্টি হবে।”

তিনি আরো বলেন, “চৌচালা সড়কের উত্তর পাশে ২৬ নং ওয়ার্ডের হালিশহর থানা ও দক্ষিণ পাশে ৩৭ নং ওয়ার্ডের বন্দর থানা। এই দুই ওয়ার্ডের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে চৌচালা সড়কটি ব্যবহার করে আসছে। আমরা বেঁচে থাকতে কোনভাবেই এ সড়ক বন্ধ হতে দিব না। ৩৭ নং উত্তর-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শফিউল আলম জানান, চৌচালা সড়ক থেকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত সড়কটি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কাজের ওয়ার্ক ওর্ডার হয়েছিল। আমি কাজও শুরু করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে ওয়াসা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। রিং রোড থেকে এই সড়ক ব্যবহার করে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশনের যাবতীয় ময়লার গাড়িগুলো এই চৌচালা সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে। তাই কোনভাবেই এই সড়ক বন্ধ করা ওয়াসার উচিত হবে না।
এ সম্পর্কে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, চৌচালা থেকে রিং রোড (বেড়িবাঁধ) পর্যন্ত সড়কটি অনেক পুরোনো। খতিয়ানেও এটি রাস্তা আছে। রিং রোড থেকে প্রচুর গাড়ি এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়ত করছে। এই সড়ক বন্ধ করে দিলে শহরের যানজট বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সিডিএ’র ইমারত নির্মাণ কমিটি গত ১২ অক্টোবর ওয়াসাকে সীমানা দেয়ালের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।
সিডিএ’র নোটিশে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত বা বিষয়টি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অন্যথায়, ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ ও তৎপরবর্তী সংশোধনী আইন ১৯৮৭ অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে স্যুয়েরেজ প্রকল্পের পরিচালক মো. আরিফুর রহমান জানান, “আরএস এ কোন রাস্তা ছিল না। বিএস করার সময় এই রাস্তা দেখানো হয়েছে। আমাদের একরকৃত জায়গার তিন ভাগের দুই রাস্তা আছে। বিএস খতিয়ানে এরপর রাস্তাটির আর কোন অস্তিত্ব নেই। ওই সব জায়গা নিয়ে অনেকেই মামলা করেছিল, মামলাগুলো ওয়াসার পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের সুবিধার্থে এখন এটাকে প্রতিষ্ঠিত রাস্তা হিসেবে দাবি করছে।”
সিডিএ’র নোটিশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএস খতিয়ানে রাস্তাটি কতটুকু আছে, আমি নিজে সিডিএ চেয়ারম্যানকে দেখিয়েছি। আমাদের যে নতুন ট্রিটমেন্ট প্ল্যানের ডিজাইন অনুযায়ী পয়োশোধানাগার হবে। পয়োশোধানাগারের একপাশে স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য আমরা ব্যবস্থা রেখেছি। তবে বর্তমান রাস্তাটি রেখে কোন ভাবেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 107 People

সম্পর্কিত পোস্ট