চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

উখিয়ায় অপ্রতিরোধ্য বালি বাণিজ্য

২৬ অক্টোবর, ২০২০ | ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক

বিরূপ প্রভাব পরিবেশে

উখিয়ায় অপ্রতিরোধ্য বালি বাণিজ্য

হুমকির মুখে ব্রিজ কালভার্ট-ফসলি জমি ও জনবসতি

উপজেলার অর্ধশতাধিক স্পট থেকে নির্বিচারে দিনরাত অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ব্রিজ, কালভার্ট, ফসলি জমি ও জনবসতি।

জানা যায়, ৩শ টাকার বালি তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার সুবাদে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে বালি বাণিজ্য। এক শ্রেণির পেশাদার বালি উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট প্রশাসনের কতিপয় কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফলিয়া পাড়ার জারাইলতলী, মধুরছড়া, হরিণমারা, বাগানের পাহাড়, বাঘঘোনা, তুতুরবিল, বালুখালী খাল, মনখালীর চিকুনছুরি খাল, ছোটখাল, বড়খাল, রেজুর মোহনা, মরিচ্যা খাল, রাজাপালং, হিজলিয়া ও গয়ালমারাসহ ৫০টিরও অধিক স্থান থেকে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করছে স্ব-স্ব এলাকার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের বিরূপ প্রভাবে পাড়া-গাঁয়ে বসবাসরত বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। থাইংখালী খালের পাড়ে বসবাসরত উমর আলী, ছৈয়দ হোছন, শামশুল হকসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, শুধু বাড়িঘর-জমিজমা নয়, জন চলাচলের রাস্তায় প্রচণ্ড ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সামাজিক বনায়নের গাছপালা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও বনবিভাগ এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। একই এলাকার ছৈয়দ হামজা ও জানে আলমসহ একাধিক লোকজন জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে চিহ্নিত কয়েকজন দালাল চক্র প্রতি মাসে অবৈধ বালিমহাল থেকে মাসোহারা আদায় করছে। যে কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে পরিবেশ ধ্বংসকারী বালি সিন্ডিকেট। দোছড়ি খালের ইজারাদার মো. শফি বলেন, চিহ্নিত অবৈধ বালি সিন্ডিকেট ইজারার পাস বই ও আমার স্বাক্ষর জাল করে দোছড়ি খালের উত্তোলিত বালি বিক্রি করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিমুল এহসান খান জানান, তিনি এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন।

অবৈধ সিন্ডিকেট এখন দিনের বেলায় বালি উত্তোলন স্থগিত রেখে রাতে বালি পাচার করছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে স্থানীয় সচেতনমহলকে আন্তরিক হতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 81 People

সম্পর্কিত পোস্ট