চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৬ অক্টোবর, ২০২০ | ৩:১৩ অপরাহ্ণ

মিটু বিভাস

আজ বিজয়া দশমী

মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ সোমবার শেষ হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। নবমী নিশি কেটে পরের দিনের সূর্য উঁকি দেওয়া মানেই পূজো শেষের ঘণ্টা। মায়ের বিদায় নেয়ার পালা। ফিরবেন কৈলাসে। আবার ১ বছরের অপেক্ষা। তার আগে আজ বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই শুরু দশমী পূজো। চলবে সিঁদুর খেলা। দশমীর অন্যতম আকর্ষণই বোধহয় এই রাঙা প্রথা। মাকে পান, মিষ্টিতে বরণের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠবেন সনাতন ধর্মালম্বী নারীরা।

এর আগে দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন গতকাল রবিবার সকালে দুর্গাদেবীর মহানবমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অনেকের বিশ্বাস মহানবমীর দিন হচ্ছে দেবী দুর্গাকে প্রাণ ভরে দেখে নেয়ার ক্ষণ। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। নবমী পূজা ছিল দুর্গাপূজার অন্তিম দিন। মহানবমীতে বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন মণ্ডপে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আরতি। শেষ মুহূর্তে পূজার্থীদের ঢলে ভেঙে পড়েছে করোনা স্বাস্থ্যবিধি। আজ কেবল বিজয়া ও বিসর্জনের পর্ব।

আজ সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট পর থেকে দশমীবিহিত পূজা আরম্ভ প্রতিমা-নিরঞ্জন ও শান্তির জল প্রদান করা হবে। দশমী থাকবে সকাল ১১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। দর্পণ বিসর্জনের পর বিকালে দেবী দুর্গার বিসর্জন দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে দেবী মর্ত্য ছেড়ে স্বর্গে ফিরবেন। পুরাণ মতে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে জয়ী হন দেবী দুর্গা। এজন্যই বিজয়া। সেই লোকাচার বাংলার ঘরে ঘরে সিঁদুর খেলা হিসেবে পরিণত হয়েছে। সিঁদুর খেলার পাশাপাশি চলে কোলাকুলিও।

তবে করোনা মহামারীর কারণে এবার কোলাকুলি হবে না। একইভাবে এবার দুর্গাপূজায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন হবে না। নগরীর বেশীরভাগ প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। এর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিসর্জনের জন্য একটি ট্রাকে একসঙ্গে অনেক মানুষ গেলেও এবার একটি ট্রাকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ১০ জন যেতে পারবেন। এর বাইরে অতিরিক্ত যাওয়া যাবে না বলে এর আগে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী প্রদান করেছেন।

গতকাল রবিবার পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করায় সকল রাজনৈতিক দল, সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. চন্দন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

একই সাথে নগরীর ১৬টি থানা কমিটির সকলকে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাবৃন্দকে পূজা চলাকালীন সময়ে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নগরীর সকল পূজা কমিটির নেতৃবন্দকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যাতে নিজ নিজ বিসর্জন স্থানে বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 133 People

সম্পর্কিত পোস্ট