চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

২৫ অক্টোবর, ২০২০ | ১:৩৭ অপরাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

কালুরঘাট সেতু নির্মাণে নকশা ও বাজেটে পরিবর্তন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি নতুন কালুরঘাট সেতু। যে সেতু দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি চলবে যানবাহন। এক কথায় সড়ক কাম রেল সেতু। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যখন আলোর মুখ দেখছিল কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু তখনই নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বসলো বিআইডব্লিউটিএ। রেলের প্রকৌশল বিভাগ বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে যখন নকশা ও বাজেট তৈরি হয়ে গেছে তখনই সেতুর উচ্চতা নিয়ে আসে আপত্তি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সেতুর উচ্চতা (৭.৬ মিটার) নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি না জানালেও ২০১৮ সালের নতুন নীতিমালা হওয়ায় ১২.২ মিটার উঁচুতে সেতু নির্মাণের অনুরোধ জানায়। আর এ আপত্তিতেই আবারও থেমে যাচ্ছে সেতুর নির্মাণকাজ। কারণ, উচ্চতা বাড়ানোর নতুন সিদ্ধান্তে যেমন বদলাবে সেতুর নকশা তেমনি বাড়বে প্রকল্প ব্যয়। যা সবই নির্ভর করছে সেতু নির্মাণে আর্থিক সহায়তাকারী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইউিসিএফ) এর পরামর্শক দল ও তাদের সিদ্ধান্তের ওপর।

যদিও কোরিয়া আর্থিক সহায়তা না দিলেও সেতু নির্মাণ হবে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল প্রকল্পে অপারেশনাল বাধা দূর এবং নিরবচ্ছিন্ন রেল সেবা নিশ্চিতে এ সেতুর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শুধু তাই নয়, আন্তঃআঞ্চলিক বিনিময় সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক মান উন্নয়নের পাশাপাশি সেতুটি নির্মাণ হলে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়েতে একটি বিরাট নেটওয়ার্ক স্থাপন হবে। যোগাযোগ স্থাপন হবে চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে। এমনকি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য বৃহৎ করিডোর তৈরি করবে সেতুটি।

তাইতো, ২০১৮ সালের প্রকল্প প্রস্তাবিত তথ্যে (ডিডিপি) সেতুর উচ্চতা ৪.১ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৭.৬ মিটার করা হলেও বিআইডব্লিউটিএ’র আপত্তি মেটাতে ১২ মিটার উঁচুতে হলেও দ্রুত সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে শুরু হচ্ছে সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। বৈদেশিক সহায়তা দেয়া সংস্থাকে পাঠানো হচ্ছে চিঠি। তাদের প্রস্তাবনা পেলেই আবারও মন্ত্রণালয়ে আসবে সেতুর মূল নকশা ও মোট বাজেটের পরিমাণ। যা একনেকে তোলার পরই শুরু হবে কাজ। যা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতুটি নাব্যতা থেকে ৭.৬ মিটার উচ্চতায় করতে ২০১৮ সালের প্রকল্প প্রস্তাবিত তথ্য অনুযায়ী ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যার মধ্যে বৈজ্যিক মূল্য ৩৭২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৭৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সেতু নির্মাণে আর্থিক সহায়তাকারী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইউিসিএফ) এই প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৮৪২ কোটি টাকা সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। এবং ৭.৬ মিটার উঁচুতে সেতু নির্মাণে শেষ করে ফেলেন তাদের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। যেখানে মূল সেতুটি করার পরিকল্পনা ছিল ১৮.৭ মিটার প্রশস্থের একটি ৭২০ মিটারের ব্রিজ। যেখানে ১০.৩ মিটার প্রশস্ত বিশিষ্ট ১.৬৯ কিলোমিটারের দুই লেনের সড়ক সংযোগও থাকবে। এছাড়া সেতুর মাঝখানে থাকবে ৬.৮৫ মিটার প্রশস্ত বিশিষ্ট ৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ সিঙ্গেল রেল লাইন। পুনঃনির্মাণ হবে ছোট ব্রিজ, স্টেশন বিল্ডিং ও প্লাটফর্ম। উভয় প্রান্তে নির্মাণ করা হবে টোল প্লাজা। বসবে সিগন্যালিং ওয়ার্কস এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ার্কস। যার জন্য অধিগ্রহণ করতে হবে ৪৪ একর জমি। তবে সেতুর উচ্চতা ১২ মিটারে নিয়ে যাওয়ায় অনেকটাই পরিবর্তন আসবে এ নকশায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক প্রকৌশলী পূর্বকোণকে বলেন, ‘৭.৬ মিটার উঁচুর সিদ্ধান্তে নতুন সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। যেটি ১২ মিটারে নিতে গেলে আরও বাড়বে। কারণ, জমি অধিগ্রহনের পরিমাণ যেমন বাড়বে তেমনি সেতুর দীর্ঘতাও। কারণ, উচ্চতা বাড়াতে গেলে একটু দূর থেকেই সেতুর দু’পাশ সড়কের সাথে মিলিয়ে আনতে হয়। এছাড়া সেতুটি বাস্তবায়ন করতে দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের যে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে সেটাও অনেক বড় ভূমিকা রাখবে সেতু নির্মাণে। কারণ, সেতু তৈরির আগেই তারা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কতটুকু করতে পারবে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন। নতুন করে পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে তারা ১২ মিটার উচ্চতায় সেতু নির্মাণে কত খরচ পড়বে তা হয়তো দেখবেন। এবং তাদের সাধ্যের মধ্যে হলেই কাজ শুরু করবেন। না হয় পারবেন না বলে জানিয়ে দিবেন। তবে তারা না পারলেও সেতু নির্মাণের কাজ আটকে থাকবে না। কারণ, এই সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করতে অনেক দেশ এগিয়ে আসবে এবং দ্রুতই সেতুর কাজ শুরু হবে।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 291 People

সম্পর্কিত পোস্ট