চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

২৪ অক্টোবর, ২০২০ | ১:৪১ অপরাহ্ণ

হুমায়ুন কবির কিরণ

আধুনিক ব্যায়ামাগার তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু

প্রতিবছর প্রায় ৩৩টি ইভেন্ট নিয়মিত আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)। কিন্তু বিস্ময়কর হলো, ক্রীড়াঙ্গনে আধুনিকতার এই সময়ে সিজেকেএস-এর নিজস্ব কোন ব্যায়ামাগার নেই। অথচ বাস্তবতা হলো, ফুটবল বা ক্রিকেট এমনকি ইনডোর অনেক খেলাধুলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ফিটনেসের জন্য ব্যায়ামাগার লাগবেই।

২০১২ সালের পূর্ব পর্যন্ত জিমনেশিয়ামে একটি কাজ সারানোর মত ব্যায়ামাগার থাকলেও উল্লেখিত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সেটি ভাড়ায় দিয়ে দেয়ার পর কার্যত ব্যায়ামাগার শুন্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে রোল মডেল চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা। সংস্থায় সর্বত্র, মাঠ, ড্রেসিংরুম, খেলোয়াড়দের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এমনকি অনুশীলনের জন্য পরিধি বাড়লেও কেউই একটি ব্যায়ামাগারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারেননি। যে কারণে করোনা মহামারীর সময়ে ঘরে বসে অনেক ক্রীড়াবিদই তাদের ফিটনেস হারিয়েছেন। যা লক্ষ্য করা গেছে সদ্য সমাপ্ত মুজিব শতবর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্টেও। সিজেকেএস সংশ্লিষ্ট কোন কোন এসোসিয়েশনকে দেখা গেছে নিরুপায় হয়ে নিজেরাই স্বল্প পরিসরে ব্যায়ামাগার করে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। অবশেষে টনক নড়েছে সিজেকেএস কর্মকর্তাদের। স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথে বাঁ-পাশে যে ক্রিকেট অনুশীলন নেট রয়েছে, তার পাশের ভবনের পুরো ফ্লোরে আধুনিক একটি ব্যায়ামাগার তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। এছাড়া ভাড়ায় দেয়া সংস্থার জিমনেশিয়ামের জিমটিও ১০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষে ২০২২ সালের শেষের দিকে সিজেকেএস-এর আওতায় চলে আসবে।

একটা সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিয়ন্ত্রণে জিমনেশিয়ামে যে ব্যায়ামাগারটি ছিল তাতে নিয়মিত অনুশীলন করে অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে শরীরচর্চা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রামের জন্য সুনাম বয়ে এনেছিলেন। বর্তমানে সেই অংশগ্রহণ প্রায় শুন্যের কোঠায়। চট্টগ্রাম জেলা শরীরচর্চা কেন্দ্রে (কমিটির মেয়াদ ২০১৯ সালে গত হয়েছে)’র সাধারণ সম্পাদক এ এস এম সাইফুদ্দিন চৌধুরী বলেন, একটা সময় নিয়মিত বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও এখন আর কোন কর্মকান্ডই নেই। ভাবতেই অবাক লাগছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব কোন ব্যায়ামাগার নেই। জেলা ক্রীড়া সংস্থার শরীরচর্চা কেন্দ্রের সর্বশেষ কোন আয়োজন ছিল ২০১২ সালে।

চট্টগ্রামে আধুনিক বেশ কিছু ব্যায়ামাগার রয়েছে। ফিটনেস সচেতন অনেকেই সেখানে নিয়মিত অনুশীলন করেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে থাকা ব্যায়ামাগারটি বর্তমানে ভাড়ায় পরিচালনা করছেন নগরীর জামাল খান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। লিফ্ট এন লাইফ নামের সেই ব্যায়ামাগারটিও যথেষ্ট আধুনিক। ব্যায়ামাগারটির পরিচালক শৈবাল দাশ সুমন এই প্রতিবেদককে বলেন, এখানে যে কোন ইভেন্টের খেলোয়াড় বা সিজেকেএস সংশ্লিষ্ট যে কেউ সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনক্রমে প্রায় বিনা খরচায় অনুশীলন করতে পারেন। করোনার কারণে মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে ব্যায়ামাগারটির কার্যক্রম। নান্দনিক এই ব্যায়ামাগারটিতে প্রধান প্রশিক্ষক হিসাবে রয়েছেন অনুপ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সচেতন যে কেউ পরিচালকের অনুমতি নিয়ে এখানে নির্বিঘ্নে অনুশীলন করতে পারেন। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলো সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে কথা বলে।

তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, লিফট এন লাইফে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে যে কোন ক্রীড়াবিদই বিনা খরচায় অনুশীলন করতে পারছেন এবং পারবেন। জিমনেশিয়ামের জিমটি ভাড়ায় দেয়া হলেও সিজেকেএস ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ গ্রহণের জন্য আমি প্রতিটি ক্লাবকেই চিঠি দিয়েছি।

দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি বলেন, মানসম্মত খেলাধুলার জন্য যে কোন ক্রীড়াবিদেরই ফিটনেস অত্যন্ত জরুরি। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে আমরা অচিরেই আরেকটি পূর্ণাঙ্গ জিম চালু করতে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে ক’দিন আগে সিজেকেএস-এর অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে নতুন আরেকটি জিম স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। দ্রুততম সময়ে আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহের পরই জিমটির কার্যক্রম শুরু হবে। তাছাড়া জিমনেশিয়ামের ভাড়ায় দেয়া জিমটি ২০২২ এর শেষ নাগাদ সিজেকেএস-এর আওতায় চলে আসলে ক্রীড়াবিদরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যায়ামাগার ব্যবহারের সুবিধা লাভ করবেন। অবশ্য জিমনেশিয়ামের ব্যায়ামাগারটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সেটির মেয়াদ বাড়তেও পারে, এমনটিও শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অন্যতম ভরসা হতে পারে ক্রিকেট অনুশীলন নেটের পাশে প্রক্রিয়াধীন নতুন ব্যায়ামাগারটি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 125 People

সম্পর্কিত পোস্ট