চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

২৩ অক্টোবর, ২০২০ | ১:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্গাপূজার আজ মহাসপ্তমী

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। করোনা মহামারীতে এবার সীমিত আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। এরমধ্যে গতকাল চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে লঘুচাপের প্রভাবে বিরতিহীন বৃষ্টি। আজ সপ্তমীতে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিতে ভাসতে পারে নগরী। অষ্টমীতেও রয়েছে বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা। ফলে ভক্তদের মাঝে পূজার আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

গতকাল সকাল থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দির ও পূজামন্ডপে আসতে শুরু করেছেন দেবী দুর্গার ভক্তরা। ষষ্ঠী তিথিতে মন্ডপে মন্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হয়। ষষ্ঠী পেরিয়ে আজ মহাসপ্তমী। এদিন কলা গাছের চারাকে গণেশের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করে সাজানো হয়। ভোর হতেই কলা বউকে স্নান করিয়ে, লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে গণেশ মূর্তির পাশে রাখা হবে। দেবী দুর্গার নয়টি রূপে নবপত্রিকা অর্থাৎ নয় ধরণের গাছ একসঙ্গে করে সপ্তমীর সকালে সামনের কোনও নদীতে গিয়ে নবপত্রিকাকে স্নান করানো হবে। এরপর নতুন শাড়ি দিয়ে সাজিয়ে দেবী দুর্গার ডান দিকে নবপত্রিকাকে স্থাপন করা হবে। মহাস্নানের মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসবের মূল অনুষ্ঠানের সূচনা।

দুর্গা প্রতিমার সামনে দর্পণ (আয়না) রেখে তাতে প্রতিফলিত প্রতিবিম্ব শুদ্ধ জল দিয়ে স্নান করানো হবে। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের মধ্যে দেবীর সপ্তমীবিহিত এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবার সপ্তমী দিনে আজ দুপুর ১২টা ১মিনিটে সব মন্দিরে করোনামুক্তি ও সবার আরোগ্য কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা মেনে পূজার প্রস্তুতি চললেও, সেখানে নেই উৎসবের ছোঁয়া। আলোকসজ্জা আর সাজসজ্জার কোনো চাকচিক্যের দেখা মেলেনি কোথাও। নগরীর হাজারীলেন, টেরিবাজার, জামালখান, নালাপড়া ও আগ্রাবাদেও মন্ডপগুলো ঘুরে দেখা গেছে প্রায় একই চিত্র। অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই নীরব। গত কয়েকবছর ধরে পূজা মন্ডপের থিম সাজানো নিয়ে মন্ডপগুলোতে যে প্রতিযোগিতা চলতে সেটা এবার নেই। আলোকসজ্জার সেই ঝলকানিও বন্ধ। তবে মন্দিরে মন্দিরে শোনা যাচ্ছে উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর ও ঢাকের বাদ্য। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় আয়োজনে হওয়া জে এম সেন হলের পূজাতেও নেই আড়ম্বরতা। প্রতিদিনের আলোচনা সভা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নেই। আছে শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আর দরিদ্রদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরীর ২৭৩টি পূজা মন্ডপে পূজার শুরু হয়েছে। সন্ধ্যার পর পূজার্থীতে মন্ডপে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে সাত্ত্বিকভাবে এবার শুধুমাত্র মায়ের আরাধনাতে সীমাবদ্ধ থাকবে পূজা। তবে মন্ডপে স্থায়ী পুলিশ না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শংকা রয়েই গেছে। এদিকে সীমিত আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গতকাল থেকে কৈবল্যধাম আশ্রমে শুরু হয়েছে পূজার নানা আনুষ্ঠানিকতা।

আশ্রমের ট্রাস্টি অজয় মিত্র শংকু বলেন, কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টচার্য্য পূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপি নাম সংকীর্তন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার শুধুমাত্র ১৫০ জনকে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক এবার ভক্তদের মাঝে দু’বেলা প্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 129 People

সম্পর্কিত পোস্ট