চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

নগরীতে ইপিজেড-রিং রোড পর্যন্ত আরেকটি সংযোগ সড়ক

১৯ অক্টোবর, ২০২০ | ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

নির্মাণে ব্যয় হবে ৪০ কোটি টাকা

নগরীতে ইপিজেড-রিং রোড পর্যন্ত আরেকটি সংযোগ সড়ক

পণ্যবাহী পাঁচ হাজার যান চলাচল

নগরীর পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের সাথে যুক্ত হবে ইপিজেড সংযোগ সড়ক। এই সড়ক বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে রিং রোড বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সাথে একাধিকবার মিটিং করার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিডিএ। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

এই সংযোগ সড়কটির কাজ শেষ হলে শহরের ভেতরের সড়ক দিয়ে আর ইপিজেডমুখী কোনো ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরি যাতায়াত করতে হবে না। ফলে ইপিজেড ও বিমানবন্দরমুখী সড়কটি অনেকটায় যানজটমুক্ত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিজেড থেকে দৈনিক ৫ হাজার পণ্যবাহী যান বের হয়। এছাড়াও অফিস সময়ে ইপিজেডের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর গাড়ি চলাচল করে। ইপিজেডের পিছনের সংযোগ সড়কটি সম্পন্ন হলে এসব গাড়ি ইপিজেডের পিছনে সংযোগ সড়ক হয়ে রিং রোডে উঠবে। এ সড়কটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বেপজার পক্ষ থেকেও নিয়মিত সিডিএ’র সাথে যোগাযোগ রাখছে। ইপিজেডের সাথে রিং রোডের কোনো সংযোগ ছিল না। ফলে ইপিজেডের কোনো গাড়ি এই রোড ব্যবহার করতে হলে পতেঙ্গা ঘুরে রাস্তাটিতে উঠানামা করতে হত। অন্যদিকে, বিমানবন্দর সড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় আগামী দু’বছর কিছুটা যানজট পোহাতে হবে। ফলে রিং রোডের সাথে ইপিজেডের একটি সংযোগ সড়ক খুবই গুরুত্বপূণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ইপিজেডের পিছনের সড়কের সাথে রিং রোডের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বেপজাও বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আগামী বছরের শুরুতে সড়কের কাজ শুরু করে জুনের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এই সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বিমানবন্দর সড়কের যানজটের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে।

তিনি আরো জানান, ইপিজিড থেকে দৈনিক ৫ হাজার পণ্যবাহী গাড়ি বের হয়। এছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের গাড়ি রয়েছে। ইপিজেডের সাথে রিং রোডের সংযোগ সড়কটি তৈরি হলে এসব গাড়ি ইপিজেডের পিছন দিকে রিং রোড হয়ে বের হতে পারবে। ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার মিটিং হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হবে ৪০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ২০০৫ সাল থেকে পতেঙ্গা হতে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে। শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুই বার সংশোধনের পর বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৭২০ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাইকার সহায়তা ৭০৬ কোটি টাকা।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 166 People

সম্পর্কিত পোস্ট