চট্টগ্রাম বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

১৫ অক্টোবর, ২০২০ | ১:২১ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

দু’সহোদরে জিম্মি লালখানবাজারবাসী

দুই সহোদরে অতিষ্ঠ নগরীর লালখানবাজারের বাসিন্দারা। মারামারি-হত্যা-চাঁদাবাজি সবকিছুতেই তারা। একাধিকবার কারাভোগ করলেও পরিবর্তন নেই দুই সহোদরের। গত সোমবার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতের সামনে সুদীপ্ত হত্যা মামলার আসামি মোক্তার আহমদের উপর হামলার নেতৃত্বেও ছিলেন দুই সহোদর। হানিফ নিজেও সুদীপ্ত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছে তারা। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে শরীফ নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলো মাঈনুদ্দিন হানিফ ও তার ছোট ভাই ওয়াসিম। জামিনে বের হয়ে ফের মারামারি আর চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। দুজনে নিজেকে লালখান বাজার ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বলে দাবি করেন। গত সোমবার লালখান বাজার এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন হানিফের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি নয়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে লোকজন জানান, দুই ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ২০১৫ সালের ২৮ মে খোকন নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে হানিফের অনুসারী শরীফ ওরফে টেম্পো শরীফ, রাব্বি, শরীফ ওরফে সুন্দর শরীফ, আলি, বাবুল, সোহাগ, রেজাউল করিম ওরফে রাজু। হত্যার পর খোকনের লাশ মাটিচাপা দেয় তারা। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি হলে ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল বিকেলে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে ওয়াসার মোড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে পৌনে এক কিলোমিটার দূরে বাঘাঘোনায় টেম্পো শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শরীফের বাবা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বাদি হয়ে এগারোজনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মাঈনুদ্দিন হানিফ, তার ছোট ভাই ওয়াসিম ও সহযোগী আরমানকে শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিলো খুলশী থানা পুলিশ। তাদের মুক্তির দাবিতে যুবলীগ আর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে সেই সময় পোস্টারও ছাপানো হয়েছিলো। সেই সময় হানিফকে গ্রেপ্তার করেছিলো তৎকালীন পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মোবাশ্বের হোসেন। বর্তমানে বান্দরবানে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোবাশ্বের জানান, হানিফের পরিকল্পনায় শরীফ হত্যাকা- সংগঠিত হয়েছিলো। হানিফের ভাই ওয়াসিমের নেতৃত্বে শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হানিফ, ওয়াসিম দুই সহোদরসহ এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।
স্থানীয় লোকজন জানান, নবযুগগোষ্ঠী নামে একটি ক্লাব রয়েছে হানিফের অনুসারীদের। যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে হানিফের নেতৃত্বে চানমারী রোডের, কাঁচা বাজার, মাছ বাজারের ছোট ছোট দোকানগুলি থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। তাদের পক্ষে চাঁদা আদায়ের কাজটি করে পিচ্ছি হানিফের অনুসারী সবুজ। এছাড়া লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড়, শহীদ নগর স্কুল থেকে ওয়াসা মোড় ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। কোন দোকানদার চাঁদা না দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই এলাকায় যতগুলি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে প্রতিটি রিকশা থেকে সপ্তাহে টাকা আদায় করা হয়। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হল ওই এলাকায় কেউ জায়গা কিনে ভবন নির্মাণ করতে গেলেই তাদের চোখ পড়ে। তারা প্রথমে ভবন নির্মাণের ঠিকাদারি চায়। তাদেরকে কাজ না দিলে ইট বালিসহ নির্মাণ সামগ্রীর ট্রাক সেখানে প্রবেশ করতে দেয় না। চালককে মারধর করে। রাতে দলবল নিয়ে এসে নির্মাণ সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে ইস্পাহানি মোড় এবং আশপাশের সংঘটিত বেশিরভাগ ছিনতাই কাজের সাথে তারা নিজে অথবা তাদের অনুসারীরা জড়িত থাকে। দুই সহোদর লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 376 People

সম্পর্কিত পোস্ট