চট্টগ্রাম শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৫ অক্টোবর, ২০২০ | ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

সেই ‘কর্নেল ভবন’ না ভেঙে এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের সুপারিশ!

বাকলিয়া এক্সেস রোডের বাবে ইউসুফ প্রকাশ ‘কর্নেল ভবন’ নির্মাণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও ভবন মালিককে দায়ী  করেছে তদন্ত কমিটি। ভবন মালিকের ভুল/মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সঠিকভাবে তদারকি না করেই ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন সিডিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই একটি ভবনই এখন ২২০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি প্রদান করা ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবন অনুমোদনের প্রত্যেকটি পর্যায়ে সিডিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দায়িত্ব পালন করেননি এবং আবেদনকারীগণ অনুমোদনের প্রত্যেকটি স্তরে ভুল/মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া কর্নেল ভবনটির পশ্চিমে খালি জায়গায় প্রকল্পের এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের ব্যাপারে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করা যাবে কিনা, সেটা নিয়ে আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ।)

কর্নেল ভবন উচ্ছেদ এবং ভবনের অনুমোদনের অনিয়ম নিয়ে ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর তদন্ত কমিটি গঠন করে সিডিএ। ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিককে আহ্বায়ক করে প্রথম তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আজাদুর রহমান মল্লিক চট্টগ্রাম থেকে বদলি হওয়ায় আগস্টে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহানগরের পরিচালক মো. নূরুল্লাহ নূরীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদনের তিনটি পর্বের মধ্যে- ‘ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র ও ইমারত নির্মাণ অনুমোদন।’ সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, অনুমোদনে তিনটি পর্বেই প্রায় একই ধরণের ভুল থাকা সত্ত্বেও একটি ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমতিপত্র জারি করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত অনুমতিপত্রে ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমতিপত্র জারি করা হয়। কিন্তু অনুমোদনের প্রত্যেকটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় অনুমোদন প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত একই রকমের ভুল রয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীগণ অনুমোদনের প্রত্যেকটি স্তরে ভুল/মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। ভুল/মিথ্যা তথ্য বিভিন্ন পর্যায়ে সংক্রমিত হয়েছে। আবেদনকারীগণ কর্তৃক ভুল/মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় অনুমতিপত্রের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। ভুল/মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য অনুমতিপত্রের শর্ত (ঙ) অনুযায়ী ১০ তলা ভবনটি অবৈধ হিসেবে গণ্য করে নকশা অনুমোদন বাতিল করা যেতে পারে।

সিডিএ’র পরিকল্পনা ও অথরাইজ বিভাগের সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সিডিএ’র উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত এলাইনম্যান্ট ভুক্ত জায়গা, রাস্তা, শিল্প এলাকা, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা ইত্যাদি সিডিএ কর্তৃক সংরক্ষণ করা হয়। এলাইনম্যান্ট ভুক্ত জায়গায় ভেতরে ভবন নির্মাণ অনুমোদনের বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগ ও অথরাইজেশন বিভাগের অধিকতর সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল।

তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখতে পায়, প্রকল্পের এলাইমেন্টের বিএস দাগ ১৭০৫১ ও ১৭০৫৪ দাগে ১০ তলা ভবনটি অবস্থিত। উক্ত ১০ তলা ভবনটির পশ্চিমে প্রায় ১৮০ ফুট খালি জায়গা রয়েছে। প্রকল্পের এলাইনমেন্টের বিষয়ে জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের নিমিত্তে সিডিএ’র প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সিডিএ চেয়ারম্যানকে জমা দেয়া হয়েছে। ভবনটির পশ্চিমে খালি জায়গায় প্রকল্পের এলাইনমেন্টের বিষয়ে জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে সিডিএ কর্তৃপক্ষ যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমরা প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিলে, সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিব।

বাকলিয়া এক্সেস রোডের প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরে ভবনটি ভাঙার কথা থাকলেও তা পারেনি সিডিএ। ক্ষতিপূরণ বাবদ ভবন মালিককে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা দিতে হবে। নগরীর ডিসি রোড এলাকায় বাবে ইউসুফ নামের ১০ তলা ভবন নির্মাণ করে হাজী চাঁন্দমিয়া সওদাগর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। এতে ৩৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 634 People

সম্পর্কিত পোস্ট