চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

১৪ অক্টোবর, ২০২০ | ১:০৮ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

চমেকে উচ্ছেদ হচ্ছে সেই নাজিমের দোকান

সরকারি জায়গা, কিন্তু দখল নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অন্যরা। অথচ তার একটি পয়সাও পাচ্ছে না সরকারের রাজস্বে। মূলত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছেন। বলছি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) নতুন ভবনের সামনে গড়ে ওঠা নাজিমের দোকান হিসেবে পরিচিত ক্যান্টিনের কথা। যেটি দীর্ঘ বছর ধরে কলেজের নতুন ভবনের সামনে অবৈধভাবে দখলে নিয়ে ক্যান্টিন হিসেবে চালিয়ে আসছিল চক্রটি। কিন্তু এ বিষয়ে এতদিন পুরোপুরিই চুপ ছিল স্বয়ং কলেজ কর্তৃপক্ষ। অবশেষে অননুমোদিতভাবে গড়ে ওঠা সেই ‘নাজিমের দোকান’ উচ্ছেদ হচ্ছে। একই সাথে উচ্ছেদ করা হচ্ছে কলেজের পেছনে তথা শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনের পাশে অবস্থিত ক্যান্টিনের রান্না ঘরটি। ইতোমধ্যে ক্যান্টিন ও রান্নাঘরটি উচ্ছেদের নোটিশও দিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ক্যান্টিনের প্রবেশের একটি গেটে তালা দিয়ে বন্ধও করে দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দীর্ঘ ছয় বছর ধরে হাসপাতালের গোল চত্বরের পশ্চিম পাশের কলেজের নতুন ভবনের সামনে টিন শেড দিয়ে গড়ে ওঠে একটি চায়ের দোকান। যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বৃহৎ আকারে ক্যান্টিন হিসেবে রূপ নেয়। একই সাথে ক্যান্টিনটির যাবতীয় রান্নাবান্নার জন্য ভবনটিরই পেছনে শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনের পাশে দখল করে করা হয় রান্না ঘরও। কিন্তু যার কোনটিরই অনুমতি ছিল না কলেজ কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ আছে, কলেজের কিছু শিক্ষার্থীরাই এ ক্যান্টিনটি স্থাপন করেছেন এবং তার থেকে মাসোহারার পাশাপাশি প্রতি মাসেই ভাড়া যা পাচ্ছে, তা নিজেরাই ভোগ করছেন। অথচ কলেজ কর্তৃপক্ষ এ ক্যান্টিন থেকে একটি পয়সাও এতদিন পায়নি।
সম্প্রতি অননুমোদিত এ ক্যান্টিনের বিষয়ে আপত্তি তোলা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অডিটেও। একই সাথে নতুন ভবনের কাজ সমাপ্ত হলেও গণপূর্ত বিভাগ থেকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও টিনশেডের এ ক্যান্টিনের কারণে দৃষ্টিকটু হওয়ায় তা বুঝিয়ে দেয়াও যাচ্ছে না বলে জানা যায় কলেজ সূত্রে। যার বিষয়ে কলেজের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১১ অক্টোবর ক্যান্টিন পরিচালনাকারী মো. নাজিম উদ্দিনকে স্বেচ্ছায় উচ্ছেদের নোটিশও দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে তা উচ্ছেদ করতেও বলা হয় নোটিশে। পাশাপাশি ক্যান্টিনটির একটি অংশের প্রবেশ গেটে তালা দিয়ে যাতায়াতও বন্ধ করে দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শামীম হাসান পূর্বকোণকে বলেন, ‘কলেজের বড় একটি ক্যান্টিন আছে। আরেকটি তো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এটি (নাজিমের দোকান) সম্পূর্ণ অবৈধ। এ দোকানের কারণে কলেজের সৌন্দর্য্যও নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের স্বেচ্ছায় উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। সময়সীমা অনুযায়ী উচ্ছেদ না করলে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 391 People

সম্পর্কিত পোস্ট