চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

১২ অক্টোবর, ২০২০ | ৬:১৪ অপরাহ্ণ

মরিয়ম জাহার মুন্নী

হাত দেয়া যাচ্ছে না সবজিতে

আপা সবজির দাম অনেক বেড়েছে। আমরাও বেশি টাকায় কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। নিলে নেন, না নিলে যান! বাজার করতে গেলে এমন কথাই শুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তাদের ব্যবহারেই বুঝা যায় দর-দামের সুযোগ নেই। কথাগুলো বলছিলেন চকবাজারের একজন সবজি বিক্রেতা। তবে এখন শুধু চকবাজারের সবজি বিক্রেতারাই নয়, নগরীর প্রায় সব বাজারেই এমন কথা শোনা যাচ্ছে। একমাস ধরে সবজির বাজার এমন চড়া হলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে লাগামহীনভাবে দাম বেড়েছে সব সবজির। এতে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে বাজারে। তিনদিন আগে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ৩শ’ টাকায়। যদিও গতকাল বাজারে দাম কমে এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। এ প্রথম রেকর্ড পরিমাণ দাম বেড়েছে আলুর। গতকালও বাজারে বড় সাইজের আলু বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। আবার কোনো কোনো অসাধু ব্যবসায়ী আলুর সংকট দেখিয়ে ৫৩ টাকায়ও বিক্রি করছে। দেশি ছোট লাল আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়, টমেটো ১৩০ টাকায়, গাজর ১১০ টাকায়, শিম ১২০ টাকায়, বেগুন ১২০ টাকায়, পটল ৭০ টাকায়, বরবটি ৮০ টাকায়, তিতাকরলা ৬০ টাকায়, পেঁপে ৫০ টাকায়, লাউ ৫০ টাকায়, কচুর চড়া ৫০ টাকায়, ফুলকপি ১৪০ টাকায়, বাঁধাকপি ১১০ টাকায় ও শসা বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকায়। এছাড়া বাজারে কিছু শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। বাজারে গেলেই মাথায় হাত ক্রেতাদের। হাত দেয়া যাচ্ছে না কোনো সবজিতে। তিনদিন আগের চেয়ে কেজিতে ৩০-৩৫ টাকা করে দাম বেড়েছে।
চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার কৃষকরা বলেন, প্রথমে বন্যার কারণে চাষের সবজি নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন করে আবার চাষাবাদ শুরু করলে অকাল বৃষ্টির কারণে প্রায় সব জাতের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। তাই জমিতে আশানুরূপ সবজির ফলন হয়নি। এসব কারণে আমরাও শহরে সবজি পাঠাতে পারছি না। চন্দনাইশের কৃষক আকরাম আলী বলেন, চন্দনাইশে তিনটি হিমাগার আছে। তিনটাতে প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন আলু রাখা যায়। তবে বর্তমানে এ হিমাগারগুলোতে অর্ধেকেরও কম আলু আছে। এদিকে নতুন করে চাষের আলু আসতেও একটু সময় লাগবে। আমরা আলুর কেজি রাখছি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। শহর আর গ্রামের মধ্যে খুব একটা তফাৎ নেই আলুর দামে।
সাতকানিয়ার কৃষক মিলন মিয়া বলেন, আমার কাঁচামরিচ বিক্রি করছি ১২০, ১৩০ টাকায়, বেগুন ৩০ টাকায় এভাবে অন্য সবজিও ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করছি।
নগরীর বাজারগুলোতে কৃষক থেকে কেনা দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। এছাড়া সাতকানিয়া, দোহাজারী, লোহাগাড়া উপজেলার হিমাগারে যথেষ্ট আলু রয়েছে বলে জানান অনেক কৃষক। সংকট শুরুর আগেই সংকট দেখাতে শুরু করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এ ক্ষেত্রে নগরীর বাজারগুলোতে সবজরি দাম বাড়লেও প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।
নগরীর ক্রেতারা বলছেন এখনি প্রসাশনের বাজার তদারকি করা দরকার। না হয় করোনার ধাক্কার পরে নিম্ন, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ না খেয়ে মরবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 124 People

সম্পর্কিত পোস্ট