চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

১২ অক্টোবর, ২০২০ | ৫:১৯ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

চসিকের সামনে পাঁচ চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সামনে পাঁচ কঠিন চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জসমূহ হল আর্থিক সক্ষমতার অভাব। নগরে সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রকল্প বাস্তবায়নে ম্যাচিং ফান্ড এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত জটিলতা।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এসব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে চসিক। এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মত আর্থিকসহ সামগ্রিক ক্ষেত্রে সক্ষমতা অনেকাংশে নেই চসিকের। ফলে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার কাজে চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। চসিককে প্রতিনিয়ত খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো আয়বর্ধক প্রকল্প বা স্থাপনা তৈরি হয়নি চসিকের। আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস গৃহকরও বিতর্কের বেড়াজালে। একারণে পিছু ছাড়ছে না আর্থিক সংকট। বর্তমানে নানা খাতে চসিকের দেনা আছে ৮৫৫ কোটি ৬৮ লাখ ২৯ হাজার ৪০৬ টাকা। যেকারণে চসিক নিজস্ব অর্থায়নে কোন উন্নয়ন কাজের দরপত্র আহবান করলে ঠিকাদাররা আগ্রহ দেখায় না।
চসিকের আরেক চ্যালেঞ্জ হল নগরীর সেবা সংস্থাসমূহের মাঝে সমন্বয়হীনতা। সিটি কর্পোরেশন একদিকে কোন একটি সড়ক সংস্কার বা নির্মাণ করে এলে অপর একটি সেবা সংস্থা কোদাল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেটি কাটার জন্য। এছাড়া এসব সরকারি সংস্থা সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ব্যবহারসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণ করলেও পৌরকর যথাসময়ে দেয় না। চলতি বছর পর্যন্ত সরকারি সংস্থাসমূহের কাছে চসিকের গৃহকর পাওনা রয়েছে ১০০ কোটি টাকা।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হল দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই শহরে প্রধান সড়ক আছে মাত্র একটি। এশিয়ান হাইওয়ে। আবার এই সড়কের উপরই সিডিএ নির্মাণ করছে ফ্লাইওভার এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। আর কোন সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া পোর্ট কানেকটিং রোডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা। অপরদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র চলমান কাজের কারণে অলিগলিতে কাটা হয়নি এমন সড়কের সংখ্যা খুবই কম।
চসিকের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হল ম্যাচিং ফান্ড। কোন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হলে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ সিটি কর্পোরেশনকেই বহন করতে হয়। যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে এই সংস্থাটি সেখানে ম্যাচিং ফান্ড প্রদান তাদের জন্য কঠিন একটি বিষয়। যেকারণে যথাসময়ে কোন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে পারে না চসিক।
সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ হল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত জটিলতা। এই সংস্থায় মোট কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৯১৬৪ জন। যার অধিকাংশই অস্থায়ী এবং দৈনিকভিত্তিক। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে। একারণে কিছু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাপকহারে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আবার অনেকেই হতাশ হয়ে কাজে মনোযোগ দেন না। একের পর এক মামলা এবং আইনি জটিলতার কারণে কর্তৃপক্ষ চাইলেও অনেককে স্থায়ী করতে পারে না।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চসিকের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। সম্প্রতি ১৭ সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কিছু প্রস্তাবনা ও সুপারিশ তিনি পেয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তিন মন্ত্রী এবং চার সচিবের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের সেবা সংস্থাসমূহকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছেন। কাজের সমন্বয়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করেছেন। বন্দর এবং কাস্টমসের আয়ের একটি অংশ চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চসিক প্রশাসক পূর্বকোণকে বলেন, আর্থিক সংকট কেটে গেলে অন্যান্য সমস্যাও ধীরে ধীর সমাধান হবে। তাই অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি সমন্বয়ের উপর বেশি জোর দিয়েছি। তাছাড়া পরামর্শক কমিটি থেকে যেসব সুপারিশ-প্রস্তাবনা এসেছে তা মূল্যায়ন করে কাজ করার চেষ্টা করছে। ম্যাচিং ফান্ড হতে চসিককে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যমান আর্থিক সংকট কিছুটা নিরসন হতো। একই সঙ্গে নগরের সকল দপ্তর/সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধান সেবা প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে চসিককে অবহিত করলে নাগরিক ভোগান্তি অনেকাংশে কম হতো।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 115 People

সম্পর্কিত পোস্ট