চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

১১ অক্টোবর, ২০২০ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় হাসপাতালের ভূমিই নেই

এমনিতেই নগরীর সর্বদক্ষিণ-পশ্চিমের পতেঙ্গা-ইপিজেড অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বঞ্চিত স্বাস্থ্যসুবিধা থেকে। এরমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে কয়েকটি মাতৃসদন থাকলেও সেগুলোতে সাধারণের চিকিৎসাসেবা নেয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। যদিও এসব মানুষের জন্য একটি সরকারি সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বারবার নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু বারবার জায়গার অভাবে হোঁচট খেতে হচ্ছে। পতেঙ্গা-ইপিজেড অঞ্চলে মাত্র একশ’ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তোলার জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর পূর্বকোণকে বলেন, একশ’ শয্যার একটি হাসপাতাল গড়ে তুলতে হলে কমপক্ষে তিন একর জায়গার প্রয়োজন। কিন্তু যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তা দেড় একরের বেশি নয়। তবে জায়গা পাওয়া মাত্রই কাজ শুরু করা হবে। সম্প্রতি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিবের সাথে কথা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে পজিটিভ।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে ওই অঞ্চলে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দেয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জায়গা নির্বাচনে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটিও এলাকা ঘুরে একশ’ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার মতো জায়গা পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদসহ সিটি কপোরেশনের প্রশাসক এবং কাউন্সিলর ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু চার থেকে পাঁচটি জায়গা পছন্দ হলেও তা আয়তনে কম থাকায় সরে আসতে হচ্ছে কমিটিকে। যদিও ইপিজেড এলাকা কেন্দ্রিক একটি জায়গা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম। তবে সেটি নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছে কমিটি। জানতে চাইলে তিনি পূর্বকোণকে বলেন, সাবেক এক কাউন্সিলরের দেখানো মতে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি জায়গা পাওয়া গেছে। তবে তাতেও পরিমাণ কম। এ বিষয়ে আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সাথে আলোচনা করা হবে। এছাড়া তাঁর কাছ থেকেও কিছু পরামর্শ নেয়া হবে। এরপরই সরেজমিনে গিয়ে আরও কিছু জায়গা দেখা হবে।
কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বকোণকে বলেন, ওই এলাকায় ঘনবসতি। জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কোথাও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় সাংসদ, প্রশাসকসহ সকলের সাথে আলোচনা চলছে। জায়গার সুরাহা হলে তারপর প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
এর আগেও চলতি বছরের প্রথমদিকে হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গাসহ একটি প্রতিবেদনও সরকারের উর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু তা ছিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্থান নির্বাচনের ভুলে সরকারের এ উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 48 People

সম্পর্কিত পোস্ট