চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০

১০ অক্টোবর, ২০২০ | ২:০২ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

বইন্যার বাজার থেকে পাহাড়তলী আড়ৎ

ভুপন জলদাস। লোকমুখে বইন্যা জাইল্লা হিসেবে পরিচিতি। ভেলুয়া সুন্দরী দিঘির দক্ষিণ পাড়ে বসে মাছ বিক্রি করতেন তিনি। তার দেখাদেখি আরও কয়েকজন জেলে সাগরের মাছ ধরে এখানে বিক্রি করতেন। সেই বইন্যার বাজার এখন চট্টগ্রামের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহৎ চালের বাজার। দিন দিন বাড়ছে এ বাজারের কদর। দিনে প্রায় ৪০-৫০ কোটি টাকার বেচাবাট্টা হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তান আমলে ভেলুয়ার দিঘির দক্ষিণ পাড়ে কয়েকটি দোকান নিয়ে বাজার গড়ে ওঠে। মূলত ভুপন জেলের দেখাদেখিতে বাজার শুরু হয়। কালক্রমে দিঘির বিস্তীর্ণ এলাজা জুড়ে বাজারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে ছোট-বড় মিলে ৫ শতাধিক দোকান রয়েছে পাহাড়তলী বাজারে। এরমধ্যে শুধু চালের বড় আড়ত রয়েছে অন্তত শতাধিক। ভোগ্যপণ্যের পাইকারি দোকান রয়েছে আরও শতাধিক। কাঁচাবাজারে রয়েছে অন্তত তিন শতাধিক দোকান। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, এসব দোকানে দিনে অন্তত ৪০-৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই বাজারকে ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি শাখা। স্বাধীনতার পর থেকে বাজারের পরিধি বাড়তে থাকে। ৮০’র দশকের পর থেকে জমজমাট হয়ে ওঠে। বর্তমানে চট্টগ্রামের চাল ও ভোগ্যপণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজারে পরিণত হয়েছে এই পাহাড়তলী বাজার। দেশের ভোগ্যপণ্যের বড় বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পর এই পাহাড়তলী বাজারের অবস্থান। পাহাড়তলী বণিক সমিতির সহসভাপতি আলহাজ জাফর আলম বলেন, ভেলুয়ার দিঘির দক্ষিণ পাড় ঘিরে বাজার গড়ে ওঠে। পাকিস্তান আমলে ডি.টি রোডের প্রাণ হরিদাশ লেনে কয়েকটি চালের দোকান গড়ে ওঠে। চাক্তাই থেকে এখানে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো। এখন শত শত আড়ৎ ও পাইকারি দোকান গড়ে ওঠেছে। দিনে ৪০-৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। তিনি বলেন, ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড ঘিরে চালের আড়ৎ গড়ে ওঠে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় বিভিন্ন জেলার চাল মিল মালিকের এখানে চাল পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও এই বাজারের কদর বেড়ে চলেছে। সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ভোগ্যপণ্য ও চালের ট্রাক যানজট ছাড়া অনায়াসে দূর-দূরান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। জানা যায়, স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকালে কোরবান আলী, হাজি মমতাজ মিয়া, ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী পাইকারি ব্যবসা শুরু করেন। চাক্তাই থেকে গরুর গাড়ি করে চাল নিতেন পাহাড়তলী বাজারে। এখন আর গরুর গাড়ির যুগ নেই। বাজারের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় দেশের উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিদিন প্রচুর ট্রাক-কাভার্ডভ্যানে চাল আসে এই বাজারে। হাজার হাজার টন চাল বিক্রি হয়। পাহাড়তলী ওয়ার্ডটি সোনালি ঐহিত্যবাহী। ভেলুয়া সুন্দরীর কাহিনী-সমৃদ্ধ ভেলুয়ার দিঘি, জোড়া দিঘি, বাজারের সন্নিকটে রয়েছে পাহাড়তলী রেল জংশন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দারের স্মৃতি বিজড়িত আত্মদানসহ ইতিহাস-সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী ওয়ার্ড। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এখানকার ব্যবসায়ীরা সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে আসছে। কিন্তু যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড দীর্ঘদিন সংস্কারের নামে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
১৯৮১ সালে পাহাড়তলী বণিক সমিতির আত্মপ্রকাশ ঘটে। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ৪০ বছরে পদার্পণ করেছে ব্যবসায়ীদের এই সংগঠন। এই উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে আজ (শনিবার)। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিশেষ অতিথি থাকবেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 166 People

সম্পর্কিত পোস্ট