চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০

৫ অক্টোবর, ২০২০ | ৩:০৬ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

বইপ্রেমীরা নতুন ভবন পাচ্ছেন ডিসেম্বরে

নগরীর শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পাবলিক লাইব্রেরি। চসিকের অত্যাধুনিক ৭ তলা এই ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত লালদিঘি কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সেন্টার কাম সাইক্লোন শেল্টার” প্রকল্পের আওতায় এই লাইব্রেরি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

ভবনের মূল কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। দ্রুত এসব কাজ শেষ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে লাইব্রেরিসহ ভবন চালু হবে জানান চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদুল আলম। চসিকের এই পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় ৪৫ হাজারের মত বই ছিল। কয়েকশ বছরের পুরনো ইংরেজি সাহিত্য, কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন গেজেটসহ মূল্যবান পত্রিকা ও সাহিত্য সাময়িকীগুলো ছিল সেখানে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে লাইব্রেরিটি ভাঙার পর বইগুলো স্থানান্তরিত করা হয় বিবিরহাট গরুর বাজারস্থ সিটি কর্পোরেশনের আরবান হেলথ কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায়। পাঠকের কথা চিন্তা করে আগের ৪৫ হাজার বই ছাড়াও প্রয়োজনে আরো বই সংগ্রহ করা হবে বলে জানান চসিকের সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী। ২০১৭ সালের অক্টোবরে নগরীর লালদিঘি এলাকার এই পাবলিক লাইব্রেরি ভাঙা শুরু হয়। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ভেঙে ফেলা হয় মুসলিম হলের পাবলিক লাইব্রেরিটিও। এরপর পাবলিক লাইব্রেরি ছাড়াই প্রায় দু’বছর কাটিয়েছেন নগরীর শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীরা। নগরীর ৬০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার জন্য মাত্র দুটি পাবলিক লাইব্রেরি ছিল। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করেই দুটি পাবলিক লাইব্রেরি ভেঙে ফেলায় বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বইপ্রেমীরা। এ দুটি লাইব্রেরি ভাঙার আগে শিক্ষার্থীাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় লাইব্রেরিতে বই পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখতেন। এখন তা ফেসবুক দখল করে নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লালদিঘি পাড় এলাকার যে ভবনে চসিকের পাবলিক লাইব্রেরি ছিল সেখানে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে একটি ৭ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ভবনের প্রথম তলায় থাকছে ১৬০ আসন বিশিষ্ট কমিউনিটি সেন্টার। দ্বিতীয় তলায় থাকছে কেন্দ্রীয় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ অফিস। তৃতীয় তলায় থাকছে শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। চসিকের পাবলিক লাইব্রেরি থাকবে ওই ভবনের চতুর্থ তলায় এবং একই ফ্লোরে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারও থাকবে। পঞ্চম তলা ফুটবল ও অন্যান্য ক্লাব, ষষ্ঠ তলায় জিমনেশিয়াম ও সপ্তম তলায় দু’টি ভিআইপি গেস্ট রুম থাকবে।
চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদুল আলম জানান, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত লালদিঘি কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সেন্টার কাম সাইক্লোন শেল্টার” প্রকল্পের আওতায় এই লাইব্রেরি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ও অন্যান্য কিছু কাজ বাকি আছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এসব কাজ শেষ করে লাইব্রেরিসহ ভবন চালু করার কথা রয়েছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 109 People

সম্পর্কিত পোস্ট