চট্টগ্রাম বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৫ অক্টোবর, ২০২০ | ২:৩৩ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

করোনায়ও বেড়েছে রাজস্ব

করোনাকালে বেড়ে গেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) রাজস্ব আদায়। গত তিন মাসে আদায় হয়েছে প্রায় ১০৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা বেশি। আয় বাড়ার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতাও নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক প্রদানও শুরু করেছে সংস্থাটি।
জানতে চাইলে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, অনিয়মকারীরা শাস্তি পাবে। আর যারা ভাল কাজ করবে তারা পুরস্কার পাবে আমি চসিকে এই নীতি গ্রহণ করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হল নগরবাসী আমার উপর আস্থা রেখেছে। আমাকে বিশ্বাস করছে। তাই তারা পৌরকর পরিশোধ করছেন। এটা তাদের আমানত। আমি আমানতের খেয়ানত করবো না। তাদের টাকা তাদের জন্যই ব্যয় করবো।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আদায় হয়েছিল ১০২ কোটি ৮৬ লাখ ৭৩ হাজার ১শ টাকা। ওইসময় করোনা মহামারী ছিল না। চলতি অর্থবছরে করোনাকালীন এই তিন মাসে আদায় হয়েছে ১০৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ২৫৩ টাকা। সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়ের খাতসমূহ হল পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর, বিজ্ঞাপন কর (স্টিকার, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি) শপসাইন, চলচ্চিত্র ও বিনোদন কর (প্রমোদ কর), যানবাহন যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক এবং বিবিধ। এসব খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয় পৌরকর থেকে। গত অর্থবছরে তিন মাসে চসিক পৌরকর পেয়েছিল ৬১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা বেড়ে তা ৭১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা হয়েছে। তবে করোনাকালে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীকে শহর ছাড়তে হওয়ায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কিছুটা কমেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে রাজস্ব আদায় আরো অনেক বেড়ে যেত। এমন মন্তব্য করেছেন রাজস্ব বিভাগের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খোরশেদ আলম সুজন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কঠোরভাবে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করেছেন। গঠন করেছেন একাধিক তদন্ত কমিটি। বদলি করেছেন শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। কাউকে কাউকে ওএসডি করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন অনেকটা তটস্থ থাকেন কখন কাকে বদলি করা হয়। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ করে তা তদন্ত করছেন। এটা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, মনিটরিং এবং মোটিভেশন আর দুষ্টের দমন শিষ্ঠের লালন হল সাফল্যের চাবিকাঠি। বর্তমানে চসিকের প্রশাসক মহোদয় একটিভ। সে কারণে সবাই একটিভ। অতীতে সকাল ৯টায় কাউকে অফিসে আসতে দেখা যায়নি। এখন সবাই সকাল ৯টায় অফিসে আসেন। বিকাল ৫টায় বেরিয়ে যান। শৃঙ্খলা এবং কাজের গতি বেড়েছে। ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমেছে। ফলে রাজস্ব আদায় বেড়েছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 114 People

সম্পর্কিত পোস্ট