চট্টগ্রাম বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

চিকিৎসক ও আইনজীবীদের জটিলতা: কেন আলাদা ট্রেড লাইসেন্স

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

সহজ সনদ মিলে জটিলপথে

জন্মসনদ, জাতীয়তা সনদসহ বিভিন্ন সনদ পেতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে নগরীর জনগণ। কাউন্সিলররা যে সনদ একদিনে, ক্ষেত্রবিশেষে ঘণ্টার মধ্যে দিতেন তা পেতে দুই থেকে চার দিন লেগে যাচ্ছে। ওয়ারিশ সনদের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। কমেছে সেবা প্রার্থীর সংখ্যাও। অপরদিকে, কাউন্সিলর না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন কোন কোন ওয়ার্ড সচিবও। কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে চসিকের কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি ধরা পড়েছে। ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সনদ চাওয়ায় তিনটি ওয়ার্ডের সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডের বর্তমান সেবা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সেবাপ্রার্থী এবং সেবাদাতাদের সাথে আলাপকালে কিছুটা অসন্তোষের চিত্র উঠে আসে। তারা জানান, অতীতে ৪১ ওয়ার্ডে সেবা দিতেন ৪১ জন কাউন্সিলর। এখন সেই কাজটি করছেন চসিকের তিনজন কর্মকর্তা। তারা প্রতিটি ওয়ার্ডকে সপ্তাহে দুইদিন বিভিন্ন সনদে স্বাক্ষর নেয়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেদিন স্বাক্ষরের জন্য নগর ভবনে আবেদনপত্র পাঠানো হয়, স্বাক্ষর হলেও সেদিন ওই সনদ পাওয়া যায় না। কিন্তু অনেকের চাকরির সাক্ষাতকার, বিয়ে, বিদেশযাত্রাসহ নানা কারণে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয়তা, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সনদের প্রয়োজন হয়। কাউন্সিলররা এসব কাজ তাৎক্ষণিকভাবে করে দিতেন। এখন সেই সুযোগ নেই। কোন আবেদনপত্রে সন্দেহ সৃষ্টি হলে চসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা তদন্ত করান। তাতেও আরো সময় লাগে। অপরদিকে, কাউন্সিলর না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন কোন কোন ওয়ার্ড সচিব। কোন কোন ওয়ার্ডে ভুয়া সনদ দেয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
নগরীর ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর এবং ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে কাউন্সিলর উপস্থিত থাকতেন। তিনি ওয়ার্ড অফিসে না থাকলে যেখানে থাকতেন, সেখান থেকে স্বাক্ষর করে আনার সুযোগ ছিল। এখন সেই সুযোগ নেই। এখন একেকজন কর্মকর্তা ১৪টি ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন। তাদেরও অফিসিয়ালি অনেক কাজ থাকে। এসব কারণে সেবার গতি কিছুটা ধীর। এখন দৈনিক ৩০ থেকে ৪০টি জাতীয় সনদ ইস্যু করা হয়। যা আগে শতাধিক পর্যন্ত হত।
আলাপকালে দুই ওয়ার্ডের সচিবদ্বয় জানান, তারা চেষ্টা করেন যাতে কোনভাবেই রোহিঙ্গারা সনদ নিতে না পারে। অন্যজেলা থেকে কেউ এলে মা বাবার আইডি দেখা হয়। শহরে বসবাসের প্রমাণস্বরূপ জমিদার অথবা মহল্লা কমিটির কারো সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন। জন্মনিবন্ধন অনলাইনে আছে কিনা চেক করা হয়। আইডি কার্ড দেখে সন্দেহ হলে, ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে যাচাই করা হয়।

অলিখিত আদেশ থেকে সরে এলেন প্রশাসক : ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে এবং ভুল ভ্রান্তি এড়াতে চসিক প্রশাসক প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা দলীয় দায়িত্বশীলদের অলিখিত দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অলিখিত দায়িত্ব পেয়ে কেউ কেউ নিজেকে ভারপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ঘোষণা করে রীতিমত মিলাদ-মাহফিল করে কাউন্সিলরের চেয়ারে গিয়ে বসেন। অভিনন্দন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। কেউ কেউ হযরত আমানত শাহ (র.) এর মাজার জেয়ারেত করে এসে চেয়ারে বসেন। সদ্য সাবেক কাউন্সিলরদের ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে প্রশাসক গণমাধ্যমে লিখিত বিবৃতি দিতে বাধ্য হন যে, তিনি কাউকে ভারপ্রাপ্ত কাউন্সিলর কিংবা প্রশাসক প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেননি।
জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে কারো আবেদন সন্দেহ হলে ট্যাক্স অফিসারদের সহযোগিতা নিয়ে নিশ্চিত হন তিনি। ইতিমধ্যে ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৫ নম্বর পাঁচলাইশ, ৬ পূর্বষোলশহর ওয়ার্ডের সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করারও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে কাজ করতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। যেহেতু মাঠ পর্যায়ে তাদের ব্যক্তিগত জানাশুনা নেই তাই অনেক সময় যাচাই করতে এক-দুই দিন লেগে যায়। বাকিগুলো টেবিলে আসার সাথে সাথেই স্বাক্ষর করে দেন।

প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া পূর্বকোণকে বলেন, আবেদন যাচাই করার জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ের লোক না থাকলেও যেহেতু শিক্ষা বিভাগ আছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষককে কাজে লাগান তিনি। সঠিকভাবেই সনদ দিচ্ছেন। বাড়তি কাজ করতে হলেও সেবা দিতে পেরে আনন্দ পাচ্ছেন। কিছু ভুল ভ্রান্তি পাওয়া যাচ্ছে। তা তদন্তের মাধ্যমে সংশোধন করে দিচ্ছি। সপ্তাহে দুই দিন করে আসতে বলেছি, তবে কারো যদি অতীব জরুরি থাকে তাহলে আসতে বলেছি। স্বাক্ষর করে দিই। সনদ থেকে ‘রাষ্ট্র বা সমাজবিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নহে’ লাইনটি কেটে দিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তাই লাইনটি তুলে দিয়েছেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 125 People

সম্পর্কিত পোস্ট