চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১:৩২ অপরাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

৫ হাজার টাকায় রুট বদল!

কম খরচে নগরীতে যাতায়াতের সহজ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত সিটি লোকাল বাসগুলো। নগরীর বিভিন্ন রুট ভাগ করে আলাদা আলাদা নম্বরে এসব বাসগুলো চলাচলের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। বিআরটিএ’র অনুমোদিত রুট ছাড়া অন্য রুটে চলাচল করলে ট্রাফিক আইনকে অমান্য করা হয়। এরপরেও বাড়তি টাকার লোভে অন্যরুটে গিয়ে যাত্রী নেয় বাসগুলো। ট্রাফিক আইন অমান্য হলেও রুট পারমিটের এ নকশা পরিবর্তন করতে গাড়ি প্রতি প্রয়োজন মাত্র ৫ হাজার টাকা। নগরীর ৩ নম্বর রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর নিউমার্কেট মোড়ে প্রবেশের রুট পারমিট না থাকলেও চাঁদার এই ৫ হাজার টাকার ক্ষমতা বলে সেখানে দাঁপিয়ে বেড়ান তারা (বাস)। আর এই অবৈধ রুটকে টাকার বিনিময়ে বৈধ করে দেয়ার তথ্য মিলেছে এক পরিবহন মালিক নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বাস মালিকদের কাছ থেকে টাকা না পেলে বৈধ রুটেও গাড়ি চালাতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
রুট পারমিটের এ চাঁদাবাজির প্রমাণও মিলেছে সরেজমিন পরিদর্শনে। পূর্বকোণের হাতে এসেছে ওই পরিবহন মালিক নেতার বাস মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করার কল রেকর্ডও। ৩ নম্বর রুটে চলাচলকারি বাসগুলোর রুট পারমিটে উল্লেখ করা রয়েছে, ফতেয়াবাদ থেকে নন্দিরহাট হয়ে অক্সিজেন দিয়ে মুরাদপুর হয়ে শহরে প্রবেশ করে ষোলশহর-ওয়াসা-আলমাস সিনেমা হল-কাজির দেউড়ি-এনায়েত বাজার-তিন পোলের মাথা দিয়ে সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত আসবে বাসটি। সেখান থেকে ফেরত যাবে বৌদ্ধ মন্দির-এনায়েত বাজার-কাজির দেউড়ি-ওয়াসা-ষোলশহর-মুরাদপুর-অক্সিজেন-নন্দিরহাট হয়ে ফতেয়াবাদ। যেখানে কোথাও উল্লেখ নেই নিউমার্কেট-কোতোয়ালী ও লালদিঘির নাম। তবুও সরেজমিনে এই স্থানগুলোতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে ৩ নং রুটে চলাচলকারী বেশকিছু বাসকে। পাশেই ট্রাফিক পুলিশের অবস্থান থাকলেও দেখেও তারা দেখেন না। রুট পারমিট না থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এই মোড়ে গাড়ি দাঁড় করাতে পারছেন তা জানতে কথা হয় এই রুটে ৮ বছর ধরে গাড়ির চালক আনসারের সাথে। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রতিদিন ওয়াবিল সমিতিকে ৩০ টাকা করে দিই। লকডাউনের আগে ১০০ টাকা ছিল। এখন ৩০ টাকা করে দিচ্ছি। আর পুলিশ গাড়ি প্রতি ৩ হাজার টাকা করে চাচ্ছে। টাকা দিলেই এখানে গাড়ি দাঁড়াতে পারে।’
চালকের এই অভিযোগ সত্য বলে জানিয়েছেন এই রুটের চলাচলকারী বাসগুলোর বেশ কয়েকজন মালিক। তবে তাদের চাঁদাবাজির অভিযোগটি পুলিশের বিরুদ্ধে নয়। চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম রসূল বাবুলের বিরুদ্ধে। তাকে টাকা দিলেই অবৈধ রুট বৈধ হয়ে যায় বলে দাবি তাদের। টাকা না দিলে সন্ত্রাসী দিয়ে আটকে দেয়া হয় গাড়ি।
বাস মালিক কামাল হোসেন ও মাহাবুব আলম পূর্বকোণকে জানান, গাড়ি প্রতি ৫ হাজার টাকা না দিলে নিউমার্কেট মোড়ে গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না বলে হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, চাঁদা দিতে অনেকটা বাধ্যও করছেন তিনি। আমরা এ চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাই।
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম রসূল বাবুল বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। তবে খবর নিয়ে দেখেছি, আমার কিছু ছেলে-পেলে চা খাওয়ার কথা বলে চালকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না।’
অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানালেন, ট্রাফিক পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘ট্রাফিক আইন অমান্য করে গাড়ি চালালেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে আপনি যে বিষয়টি জানিয়েছেন এ বিষয়ে পূর্বে অভিযোগ পাইনি। যদি কেউ পুলিশের কথা বলে চাঁদাবাজি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 109 People

সম্পর্কিত পোস্ট