চট্টগ্রাম বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ২:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের ‘অভিযোগপত্রে’ তোলপাড়, প্রমাণ মিলেছে গাফেলতির

জীবিত আসামিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ দেখিয়ে অব্যাহতির সুপারিশ করে যে অভিযোগপত্র বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ আদালতে জমা দিয়েছিল, তাতে ‘গাফিলতির’ প্রমাণ মিলেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঘটনা তদন্তে গঠিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গঠিত কমিটি। এর মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত কমিটির প্রধান সিএমপির নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার আলী হোসেন।
তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার গাফলতিতে এ ভুল হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার মামলা ও মারামারির মামলা আলাদা। দুই আসামির নামে মিল থাকলেও বাবার নাম ও ঠিকানা ভিন্ন। “তদন্ত কর্মকর্তা মামলা তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাক্ষ্য স্মারক (এমই) দেয়নি। ওটা দিলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানতে পারতেন মামলার কী অবস্থা। কিন্তু তিনি তা না দিয়ে নিজে নিজে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে দিয়েছেন।”

২০১৮ সালে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগে নাতিন জামাইসহ সাত জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। প্রায় এক বছর তদন্ত না করে গত বছরের নভেম্বরে মামলার ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে মো. জয়নাল নামে এক আসামিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত উল্লেখ করে অব্যাহতির সুপারিশ করে। কিন্তু আসামি মামলার আসামি জয়নাল নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি অগোচরে থাকলেও করোনাভাইরাসজনিত কারণে বিরতির পর সম্প্রতি আদালতের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে আসামি জয়নালের হাজিরা দিতে আসাটা অনেকের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্করকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিয়ষটি নগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উত্তর জোনের উপ-কমিশনারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন সদ্য বিদায়ী সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমান। তদন্ত কমিটি গত সোমবার নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট