চট্টগ্রাম শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১:১২ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

মাংসের বাজারে এখন ‘জার্সি’

সারাবছরের মাংসের চাহিদা মেটাতে দেশের বিভিন্ন খামারে উৎপাদিত বিদেশি জাতের গরু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যাকে সংশ্লিষ্টরা বিপ্লব হিসেবেই দেখছেন। বিক্রেতারা দেশি ঘোষণা দিয়েই এই গরুর মাংস বিক্রি করছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুধু চট্টগ্রামেই বছরে লক্ষাধিক শংকর জাতের ষাঁড় মোটাতাজা করে বাজারে বিক্রি করা হয়। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

বহদ্দারহাটা বাজারের মাংস বিক্রেতা এনামুল হক জানান, জার্সি বিদেশি জাতের গরু হলেও এটি দেশে উৎপাদিত। এখন গরু এবং মহিষের দাম একই। তাই লাভের আশায় মহিষের মাংসকে গরুর মাংস বলে চালানোরও সুযোগ নেই। যে গরু জবাই করে করা হয় তার এক টুকরো চামড়া মাংসের সাথে রেখে দেয়া হয়। যাতে ক্রেতারা বিশ^াস করেন। সাদা-কালো কিংবা কালো রঙের এসব গরুকে তারা ‘জার্সি’ বলেন। বিদেশি জাতের এসব শংকর গরুর মধ্যে জার্সি ছাড়াও আরো বহু জাত রয়েছে। তবে মাংস বিক্রেতাদের মাঝে জার্সি শব্দটিই বেশি জনপ্রিয়। এটি তাদের সাংকেতিক ভাষা যা তারা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করে। কিন্তু ক্রেতাদের বলা হয় দেশি গরুর মাংস। বিক্রেতারা কোনো অবস্থাতেই স্বীকার করতে চায় না এটা শংকর জাতের গরুর মাংস।

এসব গরুতে দেশি জাতের গরুর চেয়ে অনেক বেশি মাংস হয়। জাত বিদেশি হলেও বাংলাদেশে জন্ম নেয়া এবং দেশীয় আবহাওয়ায় বড় হওয়া এসব গরুর মাংসের স্বাদ দেশি গরুর চেয়ে কম নয়। তাই তারা দেশি গরু বলেই বিক্রি করেন। গতকাল তারা ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করেছেন বলে জানান।

পতেঙ্গা এলাকার মোল্লা ডেইরির স্বত্বাধিকারি মো. হানিফ পূর্বকোণকে বলেন, তার খামার থেকে প্রতিমাসে অন্তত ১০টি ষাঁড় বাচুর বিক্রি করেন তিনি। তার বাচুরগুলো বাঁশখালী, চকরিয়া-পেকুয়া এলাকার লোকজন এসে কিনে নিয়ে যায়। তার মত অন্য খামারিরাও তাদের খামারে উৎপাদিত ষাঁড় বাচুর বিক্রি করে দেন। তবে অন্যান্য উপজেলার ক্রেতারাও শহরের বিভিন্ন খামার থেকে ষাঁড় বাচুর কিনে নিয়ে যায়। তারা বাচুর বড় করে তা আবার বাজারে বিক্রি করে। তবে নাহারসহ কিছু কিছু খামার এখন নিজেরাই গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করে।
সাগরিকা গরু বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর পূর্বকোণকে বলেন, বাজারে সাদাকালো কিংবা কালো রঙের দেশে উৎপাদিত বিদেশি জাতের গরু বেশ বিক্রি হয়। ভারতের সাদা জাতের গরু কিংবা দেশীয় জাতের গরুর দামের মতই এসব গরুর দাম। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারিরা এসব গরু নিয়ে আসে। চাহিদা থাকায় সরবরাহ বাড়ছে। তবে মিয়ানমারের গরুর দাম তুলনামূলক কিছুটা কম।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কাজী রেয়াজুল হক পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় নিবন্ধিত প্রায় সাড়ে তিন হাজার দুগ্ধ খামার আছে। এসব খামার থেকে বছরে লক্ষাধিক ষাঁড় মাংসের জন্য বাজারে বিক্রি হয়। অনেক ক্রেতার ধারণা দেশে উৎপাদিত বিদেশি জাতের গরুর মাংসের স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ কম। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি ভুল ধারণা। ফার্মে মোটাতাজাকৃত বিদেশি জাতের গরুর মাংসের এবং পুষ্টিগুণ আমদানিকৃত মাংসের চেয়ে অনেক ভাল। তাছাড়া এসব গরু সুস্থ এবং সবল। সুস্থ গরুর মাংস সবসময় নিরাপদ।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
  • 214
    Shares
The Post Viewed By: 114 People

সম্পর্কিত পোস্ট