চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১১ কোটি টাকার জমি ১০৪ কোটি টাকায় ক্রয়!

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১:৩২ অপরাহ্ণ

কেজিডিসিএল

১১ কোটি টাকার জমি ১০৪ কোটি টাকায় ক্রয়!

সরকারি ক্রয়নীতি উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে ১১ কোটি টাকার জমি ১০৪ কোটি টাকায় ক্রয় করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। ওই সময় কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন বর্তমানে পেট্রোবাংলার পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক আয়ুব খান চৌধুরী।-বাংলানিউজ
জমিটি ক্রয় করার পর এমডির বিরুদ্ধে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। ওই সময়ে এমডির এমন কর্মকা-ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। প্রতিবাদ করায় তাদেরকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন আয়ুব খান চৌধুরী। এছাড়া ২০১১ ও ২০১২ সালে একজনের সনদ ও অন্যজনের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নিজের ক্ষমতাবলে দুই ছেলেকে সহকারী ব্যবস্থাপক পদে চাকরি দেন তিনি। এসব গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যদিও অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন আয়ুব খান চৌধুরী।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে জিইসি এলাকার ইউনেস্কো সেন্টারের পাশে ২৭ কাঠা জমিটি ক্রয় করে কেজিডিসিএল। জমিটি কিনতে কেজিডিসিএলের খরচ হয় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা। ওই সময়ে জমিটির মৌজা দর ছিলো প্রতি কাঠা ৪০ লাখ টাকা। সে হিসেবে ২৭ কাঠার জমির দাম পড়ে ১১ কোটি টাকা।
অধিগ্রহণ পদ্ধতিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করলে খরচ পড়তো ৩৩ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে কেজিডিসিএলের সাবেক এমডি আযুব খান চৌধুরী মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেছিলো।
ক্রয় নীতিমালা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজ ক্ষমতাবলে ২০-২৫ কোটি টাকায়, পরিচালনা পরিষদের অনুমতি নিয়ে ৩০ কোটি টাকা আর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে যন্ত্রাংশ ও সম্পদ কিনতে পারবেন। এরচেয়ে বেশি খরচ করলে একনেকের অনুমতি নিতে হয়।
কিন্তু আয়ুব খান চৌধুরী এসব কোনো নিয়ম-নীতি মানেননি। পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি-তো দূরে থাক শুধু বোর্ড সদস্যের অনুমতি নিয়ে জমিটি কিনতে খরচ করেন ১০৪ কোটি টাকা। তার এরকম কর্মকান্ডে পাশে না থাকায় কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আবু জাফর এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক আবদুল হক মজুমদারকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য করেন আয়ুব খান চৌধুরী।
দুদক সূত্র জানায়, ওই সময়ে আইয়ুব খানের সঙ্গে বর্তমানে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এবং ওই সময়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) ফিরোজ খান, উপ-মহাব্যবস্থাপক আনিছ উদ্দিন আহমেদ ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জমিটি ক্রয়ের নথিতে ফিরোজ খানের স্বাক্ষর ছিলো।
আয়ুব খান চৌধুরী অভিযোগের বিষয়টি হাস্যকর দাবি করে বলেন, অভিযোগটি ভুয়া ও বানোয়াট। জমিটি ৯৪ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিলো। এখন জমিটি ৩০০ কোটি টাকা দিয়েও পাওয়া যাবে না। ওই সময়ে ক্রয়-প্রক্রিয়ার সঙ্গে ২১ জন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বর্তমান এমডির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে এমডি প্রকৌশলী খায়েজ আহমেদ মজুমদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালে জিইসি এলাকায় ১১ কোটি টাকার জমি ১০৪ কোটি টাকায় ক্রয় করার বিষয়ে কেজিডিসিএলের এমন একটি অভিযোগের বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে।
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 576 People

সম্পর্কিত পোস্ট