চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

জুম ফসলে হাসি জুমিয়ার মুখে

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ২:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, থানচি

জুম ফসলে হাসি জুমিয়ার মুখে

পাহাড়ে পাহাড়ে চলছে জুমের ফসল উত্তোলনের ভর মৌসুম। বান্দরবানের থানচিতে জুমের ধান কাটতে শুরু করেছে জুমিয়ারা। এ বছর ফলন ভালো হওয়াতে জুমিয়ারাও বেশ আনন্দে।
থানচির মেনরোয়া পাড়ার বাসিন্দা জুমিয়া মেনথাং ম্রো। চলতি মৌসুমে ৫ আড়ি ধান চাষ করেন। এবারে ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। প্রায় ৪ মাসের পরিচর্যায় এখন জুমের ধান পাকতে শুরু করেছে। ফসল ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্তসময় কাটাচ্ছেন জুমিয়ারা।

সরেজমিনে ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সুংথাং খুমিপাড়া, ক্যচু মারমাপাড়া, জনেরাম ত্রিপুরাপাড়া ও ব্রহ্মদত্ত চাকমাপাড়া এলাকায় দেখা যায়, আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই জুমের ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়া পরিবারগুলো। ধান ছাড়া তিল, ভুট্টা, মরিচ, বেগুন, মারফা, হলুদ ও আদাসহ জুমের অন্য ফসল উত্তোলন করে স্থানীয় বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। বেশিরভাগ জুমিয়ারা জুমের মাচাং ঘরে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ২৭০০ হেক্টর উঁচু-নিচু পাহাড়ি জমিতে থানচি উপজেলা ৩ হাজার ৬৩৯ জন জুমচাষী জুম চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ৫ হাজার ৪শত মে.টন ধান উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছেন।

তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমা জানান, জুম চাষ এক ধরনের পাহাড় অঞ্চলে স্থানান্তর কৃষিপদ্ধতি। যা জঙ্গল কেটে পুড়িয়ে পাহাড়কে চাষের উপযোগী করার মাধ্যমে যে চাষ করা হয় তারই নাম জুম চাষ। তিন পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি মানুষের জীবিকার একমাত্র আদি ও প্রধান উৎস হল জুম চাষ। বছরের শুরু জানুয়ারি মাস থেকেই সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জুমের জঙ্গল কাটা শুরু হয়। এপ্রিল মাসের শুরুতেই জঙ্গল পুড়িয়ে পরিষ্কার করা হয়। ধান লাগানোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই জুমের ধান রোপণ করতে হয়। তারপর জাতভেদে (সাদা-লাল চাল) আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর জুমের ফসল তোলার উপযোগী হলে পাকা ধান ঘরে তোলা শুরু করে জুমিয়ারা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বান্দরবান কৃষি বিভাগের জেলা কর্মকর্তার (ডিডি স্যার) নির্দেশে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে সমন্বয় করে সরকারিভাবে তাদের যাবতীয় চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করছে। চলতি বছর কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে থানচি উপজেলায় জুমচাষে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি শতভাগ আশাব্যক্ত করেছেন।
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 87 People

সম্পর্কিত পোস্ট