চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

‘জলে গেল’ ৪১ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১:৩৮ অপরাহ্ণ

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড

‘জলে গেল’ ৪১ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ

সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া সাগর উপকূলে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় দুই কি.মি. উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই দেবে যেতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে অন্তত ২০টি পয়েন্টের ব্লক ও মাটি সরে দেবে গেছে। অত্যন্ত নিম্মমানের কাজের কারণে এ অবস্থা হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এ অংশ সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন পাউবোর কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাগর উপকূলীয় বোয়ালিয়াকুল, জমাদারপাড়া ও আকিলপুর পর্যন্ত তিনটি গ্রামের পশ্চিমে থাকা প্রায় দুই কি.মি. দীর্ঘ ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য অন্তত এক যুগ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীরা। এ নিয়ে বারবার পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গতবছর ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধটি পুনঃনির্মাণ করে পাউবো। গত বছরের ১৯ জুন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বাঁধটি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি কমিটি বাঁধটির মান যাচাই করে তবেই কাজ বুঝে নেবে। এর একমাস পর কাজটি বুঝিয়ে দেয় পাউবো।

এসময় বাঁধ সংস্কার হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন এলাকাবাসী। তবে তাদের সে স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হলো না। স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষার শুরু থেকে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে কূলে আছড়ে পড়া ঢেউয়ে ভাঙতে শুরু করে নবনির্মিত বাঁধ। মাত্র একবছরেই বোয়ালিয়াকূল, জমাদারপাড়া ও আকিলপুর তিন গ্রামের অন্তত ২০টি পয়েন্টে ব্লক ও মাটি সরে গিয়ে বাঁধ দেবে গেছে। সময়ের সাথে আরো বড় হচ্ছে এসব ক্ষত।
বাঁধের পার্শ্ববর্তী কুমিরার বাসিন্দা অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলেন, আমি প্রায়ই বিকালে বোয়ালিয়াকূল সাগর পাড়ে সময় কাটাতে যাই। এ বাঁধটি হবার পর সেখানকার মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। বাঁধটি যুগ যুগ টিকে থাকবে এমনটাই ছিলো তাদের প্রত্যাশা। কিন্তু এ বর্ষায় বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমি নিজে অন্তত ২০টি পয়েন্টে ব্লক ও মাটি সরে দেবে যেতে দেখেছি। এটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। প্রায় একই কথা বলেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, বাঁধটি নির্মাণের সময়ই এলাকাবাসী অভিযোগ করেন যে নিম্মমানের সিলেটি পাথর ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসময় সাংবাদিকরাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আমি এই অভিযোগ করি। এরপরও কাজ হয়ে যায়। তারা আমাকে ভালো কাজের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন কিন্তু বেড়িবাঁধের ব্লক ও মাটি সরে যাচ্ছে। সাগরের ঢেউয়ে এসব ভাঙন আরো বড় হচ্ছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার না হলে অল্পদিনেই আরো বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, আসলে গতবছর বর্ষার আগেই বাঁধটি নির্মাণ হয়েছিলো। সে হিসেবে গত বর্ষা ও এবারের বর্ষায় বাঁধটির কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে আমরা বিষয়গুলো আমাদের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা খুব শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করবেন।
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 95 People

সম্পর্কিত পোস্ট