চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

চট্টলা এক্সপ্রেস এখন আন্তঃনগর

২৯ আগস্ট, ২০২০ | ১:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টলা এক্সপ্রেস এখন আন্তঃনগর

চট্টগ্রাম থেকে যারা রেলপথে ঢাকায় যাওয়া-আসা করেন তাদের সকলের কাছেই পরিচিত ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’। বিশেষ করে সকালে যাত্রা করলে এই ট্রেনটিই ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রথম ছেড়ে যায়। তবে পরিচিত হলেও ট্রেনটির টিকিট সংগ্রহে অনেকটাই অনাগ্রহ ছিল যাত্রীদের। যার প্রধান কারণ ছিল ট্রেনটির সুলভ আসন ব্যবস্থা। পুরো ট্রেনে ছিল না কোন শোভন আসন বা শোভন চেয়ার ব্যবস্থা। যা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কোন কমতি ছিল না। অনেকটাই মেইল ট্রেনের আসন ব্যবস্থার সাথে মিল ছিল চট্টলা এক্সপ্রেসের আসন ব্যবস্থার। ছিল না খাবার ও নামাজের কোচও।
ট্রেনটি আন্তঃনগর হিসেবে চলাচল করলেও ছিল না আন্তঃনগরের মর্যাদা। ট্রেনটির টিকেট বিক্রি হত সর্বনিম্ম গ্রেড অর্থাৎ মেইল ট্রেনের টিকেটের মত। এতসব অপূর্ণতা থাকা আন্তঃনগর ট্রেনটি এবার পেল পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগরের মর্যাদা। ট্রেনটিতে বদলানো হয়েছে পুরানো কোচ। বসানো হয়েছে আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ার ও শোভন কোচ। যার মধ্যে থাকছে খাবার ও নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা। ট্রেনটিতে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে একটি প্রথম শ্রেণীর কোচ, দুটি শোভন চেয়ার কোচ এবং বাকিগুলো শোভন কোচ। যা পূর্বে ছিল কেবলই সুলভ চেয়ার।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশ গুপ্ত পূর্বকোণকে বলেন, ‘উদয়ন-পাহাড়িকা আন্তঃনগর ট্রেনের কোচগুলোকে মেরামত ও রং করে তৈরি করা হয় নতুন আঙ্গিকে। আর নতুন কোচগুলো সংযোজন করা হয় চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারি চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে। এতে করে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি এখন আন্তঃনগর হিসেব চলাচল করছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেনটি পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে চলাচল শুরু করে।’
এদিকে ট্রেনটি আন্তঃনগর হিসেবে দীর্ঘদিন চলাচল করলেও তার মান মেইল ট্রেনের মতই ছিল বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সরদার শাহাদাত আলী। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘ট্রেনটি আন্তঃনগর হিসেবে চলাচল করলেও এর মান ছিল মেইল ট্রেনের গ্রেডে। এ ট্রেনের টিকেটের মূল্য ছিল নিম্ন গ্রেডের। তবে নতুন করে ট্রেনটিতে সংযোজন করা হয়েছে প্রথম শ্রেণীর কোচ, দুটি শোভন চেয়ার কোচ এবং বাকিগুলো শোভন কোচ। যা পূর্বে ছিল কেবলই সুলভ চেয়ার। এতে করে পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের খেতাব মিলেছে চট্টলা এক্সপ্রেসের। সাথে বাড়ানো হয়েছে ভাড়াও।’
ভাড়ার বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. আনসার আলী পূর্বকোণকে বলেন, ‘যেহেতু ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার এবং শোভন কোচ সংযোজন করা হয়েছে সেহেতু ভাড়াও বৃদ্ধি হবে। ট্রেনটিতে চট্টগ্রাম থেকে পূর্বে ঢাকা যেতে প্রতিটি সুলভ চেয়ারের টিকেট কাটতে হয়েছিল ১৭৫ টাকায়। তবে ট্রেনটিতে এখন কোন সুলভ আসন না থাকায় যাত্রীদের সংগ্রহ করতে হবে শোভন কিংবা শোভন চেয়ারের টিকেট। শোভন টিকেটের জন্য যাত্রীদের দিতে হবে ২৮৫ টাকা এবং শোভন চেয়ারের জন্য ৩৪৫ টাকা।’
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 95 People

সম্পর্কিত পোস্ট