চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

পবিত্র আশুরার ফজিলতপূর্ণ রোজা

২৮ আগস্ট, ২০২০ | ৬:০২ অপরাহ্ণ

এহসান বিন মুজাহির

পবিত্র আশুরার ফজিলতপূর্ণ রোজা

হিজরি বর্ষপঞ্জির পহেলা মাস মহররম। এটি তাৎপর্যমণ্ডিত এবং বরকতময় মাস। মুসলিম ইতিহাসে এ মাসটি বিভিন্ন কারণে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। আসমান-জমিন সৃষ্টিসহ পৃথিবীতে অনেক স্মরণীয় ও যুগান্তকারী ঘটনা এ মাসের ১০ তারিখে অর্থাৎ পবিত্র আশুরার দিন সংঘটিত হয়েছিল। মহান আল্লাহ তায়ালা হিজরি সনের যে চারটি মাসকে সম্মানিত করেছেন তা হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও সফর। এ চারটি মাসের মধ্যে মহররম অন্যতম ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় মাস।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে গণনা হিসেবের মাস হলো ১২টি। (মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানী, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানী, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ) যেদিন থেকে তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এর মধ্যে চারটি মাস বিশেষ সম্মানিত (সূরা তাওবাহ : ৩৬)।

মহররম মাসে বহু স্মরণীয় ও যুগান্তকারী ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় বিভিন্ন দিক দিয়ে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমন করলেন, দেখলেন মদিনার ইহুদিরা আশুরার দিবসে রোজা পালন করছে। তাদেরকে রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলল, এই দিনটি আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দিনে আল্লাহ তায়ালা মুসা (আ.) এবং তার সম্প্রদায় বনি ইসরাঈলকে ফেরআউনের কবল থেকে মুক্ত করেছেন এবং তার ওপর বিজয় দান করেছেন। আর তারই শুকরিয়া হিসেবে এদিনে মুসা (আ.) রোজা রেখেছিলেন। তাই আমরাও এই দিনে রোজা রাখি। তখন রাসুল (সা.) বললেন মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে আমিই বেশি হকদার। তারপর তিনি নিজেও রোজা রাখলেন এবং সাহাবিগণকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম : ২৬৫৩)। তবে ইহুদিরা আশুরা উপলক্ষে এক দিন রোজা রাখে। তাদের রোজার সঙ্গে যেন মুসলমানদের রোজার সাদৃশ্য না হয়, তাই মুসলমানরা আশুরার রোজার সঙ্গে ৯ অথবা ১১ তারিখে আরও একটি রোজা বৃদ্ধি করে মোট দুটি রোজা রাখবে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রমজানের রোজার পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজা হলো মহররমের রোজা। (তিরমিজি : ২৪৩৮)। হজরত মুয়াবিয়া (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, আশুরার রোজা তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়নি বটে, কিন্তু আমি এই দিন রোজা রাখব। যার ইচ্ছা হয় সে এই রোজা রাখতে পার এবং ইচ্ছে হলে তা ছাড়তেও পার। (বুখারি : ১৮৬৫)।

রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং এই দিনে ইহুদিদের রোজার বিরোধিতা কর। তোমরা আশুরার রোজার সঙ্গে আগে অথবা এক দিন পরে আরও একটি রোজা মিলিয়ে রাখবে। (বুখারি : ১৮৬৫)। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের মহররমের রোজা রাখার তওফিক দান করুন।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 190 People

সম্পর্কিত পোস্ট