চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সিনহা হত্যা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন: সুযোগে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা

২৮ আগস্ট, ২০২০ | ২:০৪ অপরাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ, কক্সবাজার

সিনহা হত্যা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন: সুযোগে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা

বহু বিতর্কিত টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিনহা হত্যার রহস্য উদঘাটন কাজে ব্যস্ত থাকার সময়টাকে সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারীরা।

এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকায় বেড়ে গেছে ইয়াবা পাচার। ইয়াবা পাচারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের কারবারীরা বাকিতেও এখন কোটি কোটি টাকার ইয়াবা দিচ্ছে। রোহিঙ্গারা সেগুলো বিক্রি করেই পরিশোধ করছে টাকা। আর পাচারে প্রতিদিনই ব্যবহার হচ্ছে নিত্যনতুন কৌশল।

গত সোমবার কক্সবাজার শহরের খুরুশকুল মাঝিরঘাট এলাকা থেকে ১৩ লাখ ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে র‌্যাব। এছাড়ও গত কয়েক মাস ধরে বড় বড় ইয়াবার চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে। এসব রুটে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অনেক চালান জব্দও করেছে। গত দু’মাসে অন্তত ১৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হলেও পাচার হয়েছে এর কয়েকগুণ বেশি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ইয়াবা নিয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে। ইয়াবা কারবারীদের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। ইয়াবার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়তই ইয়াবা জব্দ হচ্ছে। গ্রেপ্তার হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি এলাকা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। ইয়াবা কারবারি যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকছে বড় বড় চালান। চেনাপথগুলো বদলে নতুন পথ দিয়েই সেগুলো আনছে চোরাচালানিরা।

অনেকে বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান লোক দেখানো। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের অভিযান কিংবা গৃহীত অন্য কর্মসূচির কারণে ইয়াবা পাচার অনেকটাই কমে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, স্থলপথে কড়াকড়ি আরোপ করায় ইয়াবা কারবারিরা এখন সরাসরি সমুদ্র পথকে বেছে নিয়েছে। মিয়ানমার থেকে চালান আসে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে। এ ছাড়া মহেশখালী-কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্র চ্যানেল ব্যবহার করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও খুলনায়ও পাচার হচ্ছে ইয়াবার চালান।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে আনার পর চট্টগ্রামে গুদামে রাখা হয়। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয় ইয়াবা। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতি রাতে খালাস করা হয় লাখ লাখ ইয়াবা। আর পতেঙ্গায় ইয়াবা আসে সমুদ্রপথে। সমুদ্রপথে ইয়াবা পরিবহন ও পাচারের সঙ্গে স্থানীয় ট্রলার মালিকদের একটি অংশ জড়িত বলেও তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কাছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের সর্বশেষ তালিকায়, কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে শুধু টেকনাফেই রয়েছে ৯১২ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় কক্সবাজারের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আছে ৭৩ জন। তবে তালিকাভুক্ত বড় বড় গডফাদার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই কারণে তাদের মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট দেশে প্রতিদিনই ঢুকছে। শুধু বদল হচ্ছে গডফাদার আর পাচারকারী।
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 75 People

সম্পর্কিত পোস্ট