চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

২৫ আগস্ট, ২০২০ | ৩:২৪ অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ

১৪৬ কোটি টাকায় নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ

উদ্বোধনের আগেই ১০ স্থানে ধস

উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধে স্থাপিত সিসি ব্লক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে। জোয়ারের পানির আঘাতে অন্তত ১০টি স্থানে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শাহপরীর দ্বীপে বসবাসকারী প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, বাঁধ নির্মাণ কাজে তড়িঘড়ি করায় জোয়ারের পানিতে সিসি ব্লকগুলো সরে গিয়ে সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে অন্তত ১০টি স্থানে সিসি ব্লকগুলো ধসে পড়ছে। শাহপরীরদ্বীপে ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দক্ষিণ পাশের মাঝেরপাড়া, দক্ষিণপাড়ার আধা কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অংশে ডাম্পিং ব্লক কম দেয়ায় জোয়ারের পানির আঘাতে সিসি ব্লক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে। এতে নির্মাণাধীন এ বেড়িবাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নকশায় কিছুটা ত্রুটি থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নকশা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণাধীন রয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২২ জুলাই শাহপরীরদ্বীপের পশ্চিমপাড়ার বেড়িবাঁধের ৬৮ নং পোল্ডারের একাংশ সাগরের জোয়ারের পানির তোড়ে বিলীন হয়ে যায়। সংস্কারের অভাবে প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়িবাঁধ অরক্ষিত হয়ে শত শত পরিবার বসতঘর-দোকানপাট-মসজিদ-মাদ্রাসা ও রাস্তাঘাট সাগরে বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘ ভোগান্তির পর ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট একনেকের সভায় ২ দশমিক ৬৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে ১০৬ কোটির টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে এ প্রকল্পে আরও ৪০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৯ সালের জানুয়ারিতে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন নারায়ণগঞ্জের সেনাকান্দায় নৌবাহিনীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড। এরপর তারা কাজটি সহযোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটিএ গ্রুপকে দেন। ২০২০ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি শেষ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা বাস্তভিটা হারানো ফজল আহমদ বলেন, ‘গত বছর বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হলে এলাকার শত শত লোকজন আশার আলো দেখতে পেলেও বাঁধ ধসে পড়ার খবরে আবারো স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কিছুদিন আগে দক্ষিণপাড়া এলাকার বাঁধের শেষাংশে ব্লক বসানোর কাজগুলো খুবই তাড়াহুড়ার মাধ্যমে করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন মেম্বার বলেন, সাত বছর অরক্ষিত থাকার পর বাঁধ নির্মাণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে আনন্দ বিরাজ করছিল। কিন্তু বাঁধের কাজ শেষ না হতেই জোয়ারের পানিতে যেভাবে সিসি ব্লকগুলো ধসে যাচ্ছে তাতে পুরো দ্বীপের মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আবারো ভাঙন থেকে রক্ষা করতে হলে এখনি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সহযোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটিএ গ্রুপের প্রতিনিধি উত্তম কুমার শাখারী বলেন, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং পাউবোর নিয়মিত তদারকিতে বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। সেখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে জোয়ারের পানিতে ঢেউয়ের আঘাতে সিসি ব্লকগুলো সরে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমরা একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করব।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, বাঁধের যে অংশে এখন ঝুঁকি দেখা দিয়েছে নকশা করার সময় সেখানে চরটা অনেক দূরে ছিল। সাগরের অব্যাহত ভাঙনে বর্তমানে বাঁধের কাছে চলে আসায় বড় ঢেউগুলো বাঁধের ব্লকের ওপর আছড়ে পড়ছে। বাঁধের প্রতিরক্ষা ব্লকের সামনে আরও বেশি ব্লক দেয়ার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 101 People

সম্পর্কিত পোস্ট