চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দর্শনার্থীর পদভারে মুখর চিড়িয়াখানা

২৪ আগস্ট, ২০২০ | ২:১৯ অপরাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নী

দর্শনার্থীর পদভারে মুখর চিড়িয়াখানা

আবার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা। ১ম দিনেই ৭শ’ দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। করোনার লকডাউন শেষে দীর্ঘদিন পরে মানুষের উপস্থিতিতে পশু-পাখিরাও হয়ে উঠেছে চঞ্চল। খাঁচার ভিতরে পাখি ডাকাডাকি করছে। বানরগুলো একে অন্যের সাথে খেলছে আর ময়ূরগুলো নাচছে। বাবা-মায়ের হাত ধরে বেড়াতে এসেছে শিশুরা। পশু-পাখির এমন কিচিরমিচির আর ছোটাছুটি দেখে খুশি শিশুরাও। শিশু-কিশোর ও অভিভাবকরা খাঁচার বাইর থেকে হাত নেড়ে, শিষ দিয়ে বা কিছু খাবার দিয়ে মজা করছে পশু-পাখিগুলোর সাথে। মানুষের উপস্থিতি আর পশু-পাখির চঞ্চলতায় বিনোদন কেন্দ্র খোলার প্রথম দিনই বেশ জমে উঠেছে চিড়িয়াখানা। ব্যস্ততা বেড়েছে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। পুরো চিড়িয়াখানাজুড়ে পরিষ্কার ও ঝকঝকে পরিবেশ বিরাজ করছে। কোথাও কোনো ময়লা-আবর্জনা নেই। এছাড়া নানারকম উজ্জ্বল রঙ্গের মিশ্রণ দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো চিড়িয়াখানার দেয়াল, পশুপাখির খাঁচা ও ভেতরের সিঁড়িগুলো। সব মিলিয়ে নজর কাড়ছে বর্তমান চিড়িয়াখানার ভেতর-বাইরের সৌন্দর্য। প্রতিটি খাঁচা পশু-পাখিতে ভরা।
গতকাল বিকেলের দিকে চিড়িয়াখানার টিকেট কাউন্টারে দেখা যায় নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট ক্রয় করছেন। কেউ বন্ধু-বান্ধবী মিলে বেড়াতে এসেছেন। আবার বেশির ভাগই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় সব বয়সী মানুষের ভিড়। বসার জায়গাতেও মানুষের ভিড় ছিল বেশ লক্ষণীয়। চিড়িয়াখানার ভিতরে নিচের অংশে শিশুদের খেলার জন্য করা হয়েছে দারুণ ব্যবস্থা। সেখানে দোলনায় দোলে দোলে খেলা করছে শিশুরা। এতো কিছুর মাঝখানে মোবাইলে ছবি কিংবা নিজেরা নিজেদের সেলফি তুলতে ছাড়ছে না। পশু-পাখির খাঁচার সামনে, গাছের সাথে ও সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে নানানভাবে ছবি তুলছে দর্শনার্থীরা। সব মিলিয়ে যেন অনেক দিন পরে আবার প্রাণ খুঁজে ফেল চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা।
কথা হয় এখানে ঘুরতে আসা কয়েকটি পরিবারের সাথে। সবাই জানান, টানা পাঁচমাস পর তারা ঘর থেকে বের হয়েছেন পরিবার নিয়ে।
ফরহাদ মিলন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, মানুষ সারাজীবন কাজ-কর্মে ব্যস্ত থেকেও বাঁচতে পারে না, আবার শুধু বিনোদন করেও বাঁচতে পারে না। মানুষকে সবকিছুর সাথে ব্যালেন্স করেই বাঁচতে হয়। কাজ-কর্ম, পড়াশোনা ও বিনোদন সবকিছুরই প্রয়োজন আছে মানুষের জীবনে। তাই টানা ঘরবন্দী হয়ে থাকায় শিশু থেকে বয়স্ক সবাই একপ্রকার অসুস্থ হয়ে উঠেছে। মানসিক নানান সমস্যায় ভুগছে শিশু-কিশোররা। এমুহূর্তে সবাইকে স্বাবাভিক জীবনে ফিরতে হলে আগে একটু মাইন্ড রিফ্রেশমেন্টের প্রয়োজন আছে। এ জন্যই বিনোদন কেন্দ্র খোলোর প্রথম দিনেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। আমি আমার ভাই ও বোনের বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। সাথে তাদের মায়েরাও আছে। বাচ্চারা দেখছি খুব খুশি। সাথে বাচ্চাদের মায়েরাও দেখছি আনন্দ করছে। তাই আমারও খুব ভালো লাগছে।
চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, দীর্ঘ পাঁচমাস পরে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা প্রাণ খুঁজে পেয়েছে। প্রথম দিনেই ৭শ’ মানুষের আগমন হয়েছে। যা আমাদের ভাবনার চেয়েও বেশি। আসলে মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে কখন বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলবে। হয়তো আরো এক সপ্তাহ চাপ থাকবে। পরে স্বাভাবিক হবে। তাই আমরাও যতটা সম্ভব ভেতরে প্রবেশ করতে মাস্ক ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছি। সবার নিরাপত্তার বিষয়টি ভালোভাবে নজরে রাখছি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 136 People

সম্পর্কিত পোস্ট