চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২১ আগস্ট, ২০২০ | ৭:২৫ অপরাহ্ণ

পূর্বকোণ অনলাইন

ডেঙ্গু-জিকা রুখতে ফ্লোরিডায় ছাড়া হচ্ছে ৭৫ কোটি মশা!

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ৭৫ কোটি জিন বদলে দেওয়া এইডিস মশা ছাড়ার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।ডেঙ্গু ও জিকার মতো প্রাণঘাতী রোগ বহন করা মশার সংখ্যা কমাতেই এই ধরনের জেনেটিক্যালি মডিফায়েড মশা ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিবিসি জানিয়েছে, জিন বদলে দেওয়া মশা নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর জোর প্রতিবাদ সত্ত্বেও ফ্লোরিডায় এই পাইলট প্রকল্প সবুজ সংকেত পেল।এসব মশা পরিবেশের ক্ষতি ও ‘অনিচ্ছাকৃত পরিণতির’ দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে পরিবেশবাদীদের একটি দল একে ‘জুরাসিক পার্ক এক্সপেরিমেন্ট’ অ্যাখ্যা দিয়েছে।

তারা বলছে, জিন বদলে দেওয়া এসব মশা বাস্তুসংস্থানের সম্ভাব্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং এসব মশার কারণে হাইব্রিড, কীটনাশক-প্রতিরোধী মশারও জন্ম হতে পারে। প্রকল্পটির সঙ্গে সম্পৃক্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি অক্সিটেক বলছে, জিন বদলে দেওয়া মশার কারণে মানুষ বা পরিবেশের কোনো ধরনের ক্ষতিই হবে না। এ নিয়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া বেশ কিছু গবেষণার দিকেও ইঙ্গিত করেছে তারা।

কোম্পানিটি ২০২১ সালে ‘ফ্লোরিডা কীজ’ নামে পরিচিত দ্বীপগুলোতে এসব মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএস এনভায়রনমেন্টাল এজেন্সি যুক্তরাজ্যভিত্তিক অক্সিটেককে জিন বদলে দেওয়া পুরুষ এইডিস এইজিপ্টি মশা উৎপাদনের অনুমতি দেয়।

এই এইডিস মশাই মানুষের মধ্যে জিকা, চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গু ও পীতজ্বরের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়াতে মূল ভূমিকা রাখে।কেবলমাত্র স্ত্রী মশা মানুষকে কামড়ায়; এ কারণে অক্সিটেক পুরুষ এইডিস মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। জিন বদলে দেওয়া এসব মশার সঙ্গে স্ত্রী মশার মিলনে যে স্ত্রী মশা জন্মাবে সেগুলো মানুষকে কামড়ানোর মতো বয়সে আসার আগেই মারা পড়বে; আর যেসব পুরুষ মশা জন্মাবে সেগুলোর মধ্যেও বদলে দেওয়া জিন থাকবে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে স্ত্রী এইডিস মশার সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হবে।

মঙ্গলবার ‘ফ্লোরিডা কীজ মসকিউটো কন্ট্রোল ডিস্ট্রিক্ট’ তাদের আওতাধীন এলাকায় আগামী দুই বছরের মধ্যে জিন বদলে দেওয়া ৭৫ কোটি এইডিস মশা ছাড়ার চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছে।

অক্সিটেকের উৎপাদিত মশা ছাড়ার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।চেইঞ্জ ডট অর্গ ওয়েবসাইটের এক পিটিশনে স্বাক্ষর করা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোকে ‘জিন বদলে দেওয়া পোকার পরীক্ষাগার’ বানানোর বিরোধিতা করেছেন।

ব্রাজিলে এ জিন বদলে দেওয়া মশা ব্যবহার করে সফলতা মিলেছে বলে নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে অক্সিটেক। আগামী বছরের শুরুতে টেক্সাসেও এই ধরনের মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে তারা। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত অনুমোদন পেলেও টেক্সাস অঙ্গরাজ্য কিংবা সেখানকার কোনো শহর বা এলাকা এখনও জিন বদলে দেওয়া মশা ছাড়ার অনুমতি দেয়নি।

“জিন বদলে দেওয়া এসব মশা ছেড়ে মহামারীর মধ্যে অহেতুক ফ্লোরিডার বাসিন্দা, পরিবেশ ও বিপন্ন প্রজাতিগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে,” বলেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ। অক্সিটেকের এক বিজ্ঞানী বলেছেন, তারা কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের একশ কোটিরও বেশি মশা ছেড়েছেন। কিন্তু কোথাও পরিবেশ বা মানুষের কোনো ধরনের ক্ষতি হতে দেখেননি। তথ্যসূত্র : বিডি নিউজ

পূর্বকোণ / আরআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 105 People

সম্পর্কিত পোস্ট