চট্টগ্রাম সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

ঝুঁকি সত্ত্বেও কমিয়ে আনার চিন্তা কোভিড হাসপাতাল!

২০ আগস্ট, ২০২০ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

ঝুঁকি সত্ত্বেও কমিয়ে আনার চিন্তা কোভিড হাসপাতাল!

সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল। শয্যা খালি নেই কোথাও, হাসপাতাল ঘুরে রাস্তায় কিংবা গাড়িতেই মৃত্যু হচ্ছিল কারও কারও। করোনার সংক্রমণ শুরুর পর এমন চিত্রই ছিল চট্টগ্রামে। কিন্তু এসব হাসপাতালগুলোতে এবার দেখা দিয়েছে রোগীর অভাব। অধিকাংশ হাসপাতালের শয্যা ফাঁকা পড়ে আছে। এই বাস্তবতায় এবার কোভিড ডেটিকেটেড প্রতিষ্ঠান কমিয়ে আনার চিন্তা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে আরও বেশ কিছুদিন প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব স্থিমিত হলেও অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে দ্বিতীয় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অন্তত শীত মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ডেটিকেটেড হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার রয়েছে ১২টি। যাতে সব মিলিয়ে এক হাজার পাঁচশ’ শয্যা রয়েছে। কিন্তু গতকাল বুধবার এসব হাসপাতালে সব মিলিয়ে রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র দু’শর মতো। এরমধ্যে অর্ধেকের চেয়ে বেশি রোগীই ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে। তাও আবার দুই হাসপাতালে তাদের ধারণ ক্ষমতার ১০ শতাংশের কম রোগী ছিল সেখানে।

অন্যদিকে, রেলওয়ে বক্ষব্যাধি ও হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে কোন রোগীই ছিল না এ দিন। রোগী না থাকার তালিকায় রয়েছে কিছু কিছু আইসোলেশন সেন্টারও। কয়েকটি সেন্টারে দুই সপ্তাহ ধরেও মিলছে না রোগী। আর এমন বাস্তবতায় ডেটিকেটেড হাসপাতাল কমিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়। যা চলতি মাসের শেষের দিকেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু পর থেকেই মানুষ আতঙ্কের মধ্যে ছিল। কিন্তু তা এখন আর নেই। ভয় ভীতি কমেছে সবার মাঝে। আক্রান্তরাও নিজেরা বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যার কারণে হাসপাতালগুলোর শয্যা এখন বেশ ফাঁকা। তাই কিছু হাসপাতাল কমিয়ে আনার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এখনো তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যা আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপরেই মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

‘হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা কমে আসায় চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চিন্তাও রয়েছে। এরমধ্যে কিছু কিছু হাসপাতালকে নন কোভিড তথা সাধারণদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষ তাদের সেবা নিশ্চিত করতে পারে। যোগ করেন স্বাস্থ্য পরিচালক।’

আইসোলেশন সেন্টারের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কি ধরনের চিন্তা রয়েছে, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির পূর্বকোণকে বলেন, ‘আইসোলেশন সেন্টারগুলো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার উদ্যোগে করা হয়েছে। তাতে শুধু আমাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনাই ছিল এতদিন। জনবল ও অন্য সকল বিষয়ে সংশ্লিষ্টরাই দেখভাল করেছেন। সেটা তাদের উপর নির্ভর করবে। এসব সেন্টার কি তারা চালু রাখবে নাকি বন্ধ করবে, তা সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্টরাই সিদ্ধান্ত নিবেন। এতে আমাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি।’
স্বাস্থ্য বিভাগের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও ভাবা উচিত উল্লেখ করে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব স্থিমিত হলেও অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে দ্বিতীয় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে। তাই হাসপাতালের সংখ্যা যদি কমানো হয়, অন্তত হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। এছাড়া বর্তমানে থাকা হাসপাতাল বা আইসোলেশন সেন্টারগুলোও অন্তত আগামী শীত মৌসুম পর্যন্ত রাখা উচিত।
এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোভিড চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনা চলে যাবে, বিষয়টি ধারণা না করে বরং করোনা আবার একই রূপে বা তার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে আসতে পারে। এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রস্তুত থাকা দরকার। তাহলে আরেকটা সেকেন্ড ওয়েব আসলেও, ওই সময়ে রোগীদের সেবা দিতে আর কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। আর বিষয়টি অন্তত আরও ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত স্বাস্থ্য বিভাগের।’

এ চিকিৎসকের মতো একই কথা জানালেন জনস্বাস্থ্য রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘কোভিড চলে গেছে বা কমে গেছে। যার কারণে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছে না। বিষয়টি সঠিক নয়। বরং অব্যবস্থাপনার কারণেই রোগীরা হাসপাতাল বিমুখ। তাই এ মুহূর্তে হাসপাতাল বা সেন্টার বন্ধ কিংবা গুছিয়ে আনার চিন্তা না করে, বরং কীভাবে তা সঠিক কাজে লাগানো যায় সেটিই ভাবা উচিত।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 95 People

সম্পর্কিত পোস্ট