চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করায় ক্ষোভ

২৭ জুলাই, ২০২০ | ৯:২৭ অপরাহ্ণ

বাঁশখালী সংবাদদাতা

বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করায় ক্ষোভ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও শেখেরখীল ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ মৃত্যুর পর জানাজায় সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যথাসময়ে উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় নেতাকর্মী ওস্থানীয় জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কবর দেয়ার পর গার্ড অব অনার দেয়ার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় লোকজন ও মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দেন। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবেশ শান্ত হয়।

দুপুর ১টার দিকে শেখেরখীল লাল জিয়ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকার চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে ভুল বুঝাবুঝির সমাধান করেন। পরে তারা মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফের কবরে ফুল দিয়ে এবং মোনাজাত করে ফিরে আসেন।

শেখেরখীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাগণ জানাজার আগে উপস্থিত না হওয়ায় আগত মুসল্লিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। লাশ দাফনের পরে সরকারি কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার আহমদ ছফা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান না দিয়ে কবর দেয়া প্রশাসনিকভাবে অবহেলা করা হয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে পতাকা সহকারে শেখেরখীল মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় নিয়ে যাওয়ার জন্য উপজেলা কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষা করেছি। উপজেলা প্রশাসনকে রবিবার থেকে দাফনের সময়সূচি জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। পুলিশ যথাসময়ে উপস্থিত থাকলেও সরকারি কোন কর্মকর্তা উপস্থিত না হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আমরা সম্মান করি। ওনি সম্মানিত ব্যক্তি। সরু রাস্তা হওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানাজায় পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মেনে নিয়ে সকলের সহযোগিতায় ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রতিষ্ঠতা সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী মরহুম মৌলভী ছৈয়দের আপন বড় ভাই।

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/অনুপম-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 291 People

সম্পর্কিত পোস্ট